ইরাকের বাগদাদে বিমানবন্দরে নামার আগেই ইরানের কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল সোলাইমানির বিমানযাত্রার পুরো বিষয়টি একটি ড্রোন দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে মার্কিন ঘাঁটি প্রথম সোলাইমানির সফর পরিকল্পনা জানতে পারে। এরপরই দ্রুত সোলাইমানিকে হত্যার ছক কষে ফেলে মার্কিন গোয়েন্দারা।
হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান থেকে নামার পর সোলাইমানির মাথার ওপর চক্কর দিয়েছিল লেজার গাইডেড ড্রোন। নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল তার প্রতিটি পদক্ষেপ।
মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন বিশেষ অভিযান বিশেষজ্ঞ ব্রেট ভেলিচোভিচ জানান, দ্য রিপার নামের এই ড্রোনটির দাম ছয় কোটি ৪০ লাখ ডলার।
জেনারেল এটমিকস নির্মিত এই ড্রোনটির দুটি পাখা মাত্র ২০ মিটার চওড়া। হামলার আগে ১০ মিনিট ধরে সোলাইমানি ও তার সঙ্গীদের ওপর নজর রাখছিল শক্তিশালী সেনসর থাকা ড্রোনটি।
রিপারের শক্তিশালী ক্যামেরার মাধ্যমে সোলাইমানি বিমান থেকে নামার পর কোন গাড়িতে উঠেছেন, গাড়ির কোন পাশে বসেছেন তাও দেখা গেছে। এমনকি তার গায়ের জামার রঙটি কী ছিল তাও স্পষ্ট বোঝা গেছে।
দুটি গাড়ির বহরের মধ্যে সোলাইমানির গাড়িটি ছিল সামনে। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সড়কে ওঠার পর সামনের গাড়িতে দুটি এবং পেছনের গাড়িতে দুটি রকেট হামলা চালানো হয় ড্রোন থেকে।
ক্ষমতাধর জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পরিণতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুক্রবার ইরাকে মার্কিন ড্রোন হামলায় হত্যা করা হয় সোলেইমানিকে। তবে এ হত্যাকান্ড সংগঠিত করার আগেই ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের কুদস ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যেমন বৃদ্ধি পাবে এবং সঙ্গে সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা উত্তেজনা গত বছরের শেষ কয়েক দিনে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।








