তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরের আইন শাখার অনুমতি নেওয়ার বিধান এ বিষয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি অানবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য ধারাবাহিকভাবে মনিটরিং থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন তারা। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস মনে করেন, ৫৭ ধারার মামলা নিয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি ছিল তা অনেকটা কমে আসবে।
বুধবার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক সদর দপ্তরের আইন শাখার অনুমতি ছাড়া ৫৭ ধারায় মামলা না নিতে নির্দেশনা দেন। পরে এ সংক্রান্ত একটি আদেশও জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর।
এমন উদ্যোগে জনগণ কতটা সুফল পাবে- এমন প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. ফাহমিদুল হক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ৫৭ ধারার মামলার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অনুমোদনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে যার মত এই ৫৭ ধারাটির অপব্যবহার করছিল। সেটা হয়তো এখন দীর্ঘ হবে না বা কিছুটা হলেও কমবে। কারণ স্থানীয় থানার অনুমোদনটি গ্রহণ করতে সময় লাগবে। কিন্তু ৫৭ ধারা আইন এবং তার যে বিধিবিধান রয়েছে তা একটি গণতান্ত্রিক দেশে থাকা উচিত না। যতদিন না ৫৭ ধারা উঠিয়ে নেওয়া হয় ততোদিন এর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান থাকবে।
সাংবাদিকদের ওপর ৫৭ ধারার আঘাত আসছে বলেও মন্তব্য করে ফাহমিদুল হক বলেন, সংবাদপত্র বা যে কোনো গণমাধ্যমের কিছু গঠন থাকে ঠিক তেমনি টেলিভিশনের আছে আর এটিই যেন সাংবাদিকদের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজের কোনো অনিয়ম ও অন্যায় নিয়ে কিছু লিখলে তাদের নামে মামলায় দেওয়া হয়। বর্তমানে দেশে মুক্তভাবে কথা বলার অধিকারটি কেড়ে নিয়েছে ৫৭ ধারা।
৫৭ ধারার মামলা নিয়ে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি ও অপব্যবহার ছিল সেটি কমাতে মনিটরিং শুরু হয়েছে জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস চ্যানেল আই অনলাইকে বলেন, জনগণের ভোগান্তি ও হয়রানি যেন না হয় এ ব্যাপারটি বোঝানোর জন্য পুলিশ সদর দপ্তর পদক্ষেপ নিয়েছে। থানায়
কেউ মামলা করতে আসলে যেমন পুলিশের উচিত মামলা নেওয়া; ঠিক তেমনি যার বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে তার অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করাটা।
“এখন থেকে ৫৭ ধারায় মামলা নেওয়ার আগে পুলিশ সদরের অনুমতি ও মামালার সত্যতা যাচাই করার ব্যাপার থাকবে বলে হয়রানি অনেকটা কমে আসবে। এবং অভিযোগটি মামলা নেওয়ার মত কিনা সেটিও এখন থেকে মনিটরিং করা হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, ৫৭ ধারার মামল নিয়ে পুলিশের এতোদিন কোনো মনিটরিং’র ছিল না; এখন থেকে সেই মনিটরিং হবে। মনিটরিং ও তত্ত্বাবধান যদি সঠিকভাবে কার্যকর হয় তাহলে এই মামলার অপব্যবহার আশা করতে পারি কিছুটা কমতে পারে একটি ভারসাম্য আসবে। মনিটরিং পুলিশ হেডকোয়ার্টারের আইন শাখা কিংবা আইন কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে তারা যদি সুবিবেচনা প্রয়োগ করেন তাহলে এর সুফল সবাই পাবেন।
এ মনিটিরিং কতদিন পর্যন্ত চলবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে যাই হয় তা সবকিছুই তাৎক্ষণিক। এই অনুমোদনে যদি একজন বিচারপতি, আইনজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পুলিশ কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটি কমিটি করা হতো তাহলে এ মনিটরিং সুন্দরভাবে এগিয়ে যেত। এরপরও যতটুকু হয়েছে এতে পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো হবে।








