গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারিতে নিহত ২০ জনের মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশী। সবার পরিচয় ধীরে ধীরে পরিস্কার হচ্ছে, নিহত ৩ বাংলাদেশীরা হচ্ছেন ফারাজ হোসেন, আবিন্তা কবীর এবং ইশরাত আকন্দ।
নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ইতালির ৯ জন নাগরিক আছেন বলে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো জেনতিলোনির বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি। এছাড়া জাপানের ৭ জন নাগরিক রয়েছে নিহতদের মধ্যে, জাপান সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হামলায় ভারতের এক নাগরিকের হতাহতের খবর টুইটারে আগেই জানিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো জেনতিলোনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিহত নয়জনের মধ্যে পাঁচজন নারী ও চারজন পুরুষ। আরও একজন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছে বলেও জানান জেনতিলোনি।
এদিকে জাপান সরকারের মুখপাত্র চিফ কেবিনেট সেক্রেটারি ইয়োশিহিদে সুগা জানান, গুলশানের ঘটনায় জাপানের সাতজন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও দুজন পুরুষ। এর মধ্যে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতদের বিষয়ে আইএসপিআর থেকে বলা হয়েছিল, নিহত ২০ জনের মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশি। কয়েকজন বাংলাদেশীও মারা গিয়ে থাকতে পারেন। নিহতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে সন্ত্রাসীদের নিমূর্লের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার মুখে এই হামলাকে ‘দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র’ উল্লেখ করে তা প্রতিহতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এমনটি বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আস্থা রাখুন, সন্ত্রাসীদের নির্মূল করে দেশকে একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত করব।’
বাংলাদেশে বর্বরোচিত এই হামলা এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে জাপান,ইটালি, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স। ভ্যাটিকান থেকে পাঠানো এক বার্তায় বাংলাদেশে নিরীহদের হত্যাকাণ্ডকে স্রষ্টা ও মানবতার প্রতি আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন পোপ ফ্রান্সিস।
শুক্রবার রাত নয়টার দিকে গুলশানের হলে আর্টিজান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশের দুইজন শীর্ষ কর্মকর্তা, ৬ হামলাকরীসহ কমপক্ষে ২৮ জন নিহত হন।







