দুর্নীতি রোধে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় থাকা মানুষদের ভাতা আগামী অর্থবছরে ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে দেয়া হবে। আর আগামী অর্থবছরে অতিদরিদ্র, অসহায় ও পঙ্গু ভাতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বাজেট বরাদ্দ চাওয়া হতে পারে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
জাতিসংঘ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এমডিজি অনুযায়ী ২০১৯ সালের মধ্যে দারিদ্রের হার ১১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রত্যয় বর্তমান সরকারের। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে আগামী চার বছর পর বাংলাদেশে আর দরিদ্র থাকবে না। এমডিজি অর্জনে এশিয়ার অন্যদেশগুলোর দারিদ্রের বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এগিয়ে আছে মালয়েশিয়া। তাদের বর্তমান দারিদ্রের হার ৭ শতাংশ। বাংলাদেশে বর্তমানে দারিদ্রের হার ২৪ শতাংশ। সাধারণত কোনো দেশে দারিদ্রের হার ১৪ শতাংশের নীচে নেমে এলে সে দেশে দরিদ্র নেই বলে ধরে নেয়া হয়। বাংলাদেশে অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠি নির্মূলে ২০১৫ থেকে ২০৩০ সালকে টার্গেট ধরেছে বর্তমান সরকার।
সেই লক্ষ্যে আসছে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য সুনির্দিষ্ট বেশকিছু পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশন।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ডক্টর শামসুল আলম বলেন, এটি একটি সম্বন্বিত কৌশলপত্র। তারা একে সামগ্রিকভাবে বিন্যাসের চেষ্টা করছেন। শুধু যারা দরিদ্র তারাই এই সাহায্যটি পায়। তাই দারিদ্রতা নিয়ে একটি তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তোলা হচ্ছে। তার মতে সব দরিদ্র পরিবারগুলোর তথ্য থাকলে যারা দরিদ্র নয় তারা এই সাহায্য আর পাবেননা। ব্যাংকের মাধ্যমে যেন এই লেনদেন হয় তাই সব দরিদ্র মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে বলে জানান তিনি। তারা সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অসহায়, পঙ্গু, বিকলাঙ্গদের ভাতা সবথেকে বেশি দেয়ার জন্য বলবেন।
চলতি অর্থবছরে ৩০ হাজার ৭৫১ কোটি টাকার এই খাতে ১৪৫টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে। আগামী বাজেটে সামাজিক উন্নয়ন কৌশলপত্রে দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য কর্মসূচির আওতা বাড়ার ইংগিত দিয়েছেন সচিব।
৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা বাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে সচিব বলেন, আমরা ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন জনশক্তি গড়ে তোলায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।
তবে প্রকল্পের সংখ্যা কমিয়ে এই খাতকে যৌক্তিক পর্যায়ে আনার পরামর্শ দেন গবেষকরা।
বিআইডিএস এর রিসার্চ ডিরেক্টর ডক্টর রুশিদান ইসলাম রহমান বলেন, তারা গবেষণা করে দেখেছেন যাদের জন্য প্রকল্পগুলো হাতে নেয়া হয়েছিলো তার মধ্যে শতকরা ৬০ভাগ তাদের হাতে পৌঁছেছে। ঠিকভাবে প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শুধু নিরাপত্তা নয়, সামাজিক সুরক্ষা যা কর্মসংস্থানের সঙ্গে, কর্মসংস্থানের মানের সম্পৃক্ত সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। এবং উন্নতমানের কর্মসংস্থানের জন্য লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।
দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সঠিক পরিসংখ্যান নিরুপণে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে পরিসংখ্যান ব্যুরো। তারা আশা করছেন আগামী এক বছরের মধ্যে সারাদেশে মোট জনগোষ্ঠীর ডাটাবেজ তৈরি করে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে টার্গেট জনগণকে অর্ন্তভুক্ত করা সম্ভব হবে।







