দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে নিজেদের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি নিউজিল্যান্ড। দুই ম্যাচের সিরিজে প্রথমটি জেতায় এবার সুযোগটা পেয়ে যায় তারা। মোক্ষম সুযোগটা হাতছাড়াও করেনি কিউইরা।
তবে ক্রাইস্টচার্চে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে নিউজিল্যান্ডকে। সে জন্য পঞ্চমদিনের পুরোটা সময় ব্যাট করতে হয়েছে তাদের। শেষ পর্যন্ত টেস্ট ড্র করে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে কেন উইলিয়ামসনের দল। ১৯৮৩-৮৪ সালের পর ঘরের মাঠে ইংলিশদের বিপক্ষে এই প্রথম সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড।
সিরিজে সমতা আনতে সম্ভব্য সবকিছু করেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বরফ মাথার কাছে আটকে যায় ইংলিশরা। নিউজিল্যান্ডকে এই জয়ে সাহায্য করেছেন নিল ওয়াগানার ও ইশ সোধি।
যদিও ইনিংসের শেষ দিকে নিল ওয়াগনার ৭ রানে আউট হন। তাতে অবশ্য খুব একটা সমস্যা হয়নি। তার আগে প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে বল খেলেছেন ১০৩টি। আর সোধিও ছিলেন প্রতিরোধের ভূমিকায়। ১৬৮ বল খেলে অপরাজিত ছিলেন ৫৬ রানে।
৩৮২ রানের প্রায় অসম্ভাব্য লক্ষ্য ছুঁড়ে সিরিজ ড্র করার আশায় দিনের শুরুটা ভালোভাবে করেছিল ইংল্যান্ড। বিনা উইকেটে আগের দিন শেষ করা নিউজিল্যান্ড পঞ্চমদিন সকালে ব্রডের এক ওভারেই কেঁপে উঠেছিল। দলীয় ৪২ রানে জোড়া আঘাতে ফেরেন রাভাল (১৭) ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ইংলিশ শিবিরে স্বস্তি আসে যখন বোলারদের ভূমিকায় ৯১ রানে আরো দুটি উইকেট তুলে নেয়।
ওয়াটলিং ও ল্যাথাম মিলে অস্বস্তি বাড়ালে এই জুটি ভাঙেন লিচ। শেষ দিকে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ৪৫ রানে ফিরলে জয়ের আশা জাগে ইংলিশদের। রোমাঞ্চ ছড়ানো শেষ সেশনে তাদের সেই স্বপ্ন আর টেকেনি সোধি ও ওয়াগনারের প্রতিরোধে। নিউজিল্যান্ড দিন শেষ করে ৮ উইকেটে ২৫৬ রানে।
ইংল্যান্ডের হয়ে স্টুয়ার্ট ব্রড, মার্ক উড ও লিচ প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। একটি করে উইকেট নেন জেমস অ্যান্ডারসন ও জো রুট। অ্যান্ডারসন আবার রেকর্ড গড়েছেন এদিন। টেস্টে সর্বাধিক ডেলিভারির তালিকায় পেসারদের মাঝে শীর্ষে উঠে গেছেন ইংলিশ তারকা। তার মোট ডেলিভারি এখন ৩০ হাজার ২০টি।
ম্যাচসেরা হয়েছেন টিম সাউদি ও সিরিজসেরা ট্রেন্ট বোল্ট।







