জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত অবক্ষয় ও বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম এবং পরিবারকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (বেন) এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘শৈশবের জন্য করণীয়: শৈশব এবং ধরিত্রীকে সুরক্ষিত রাখা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এ আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সহযোগী ছিল আরনেক এবং সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। মিডিয়া পার্টনার ছিল চ্যানেল আই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে বিনিয়োগ কোনো ব্যয় নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিশুদের জন্য নিরাপদ ও বিকাশবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, শিশুদের সুরক্ষা ও বিকাশ এবং প্রকৃতি-পরিবেশ সংরক্ষণ একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেন-এর সহ-সভাপতি মাহমুদা আক্তার। তিনি বলেন, শিশুর জীবনের প্রথম এক হাজার দিন শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পরিচর্যা, পারিবারিক যত্ন ও প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সংলাপে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অনেক পরিবার এখনো শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশের গুরুত্ব সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতন নয়। ফলে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পরিচর্যা এবং প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অভিভাবকদের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবার সম্প্রসারণ প্রয়োজন।

উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা বলেন, একটি শিশুর সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, সুরক্ষা ও মানসিক বিকাশকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শিশুদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ায় শিশু-কেন্দ্রিক জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
আলোচনায় বক্তারা একমত হন, শিশুদের সার্বিক কল্যাণ ও পরিবেশ সুরক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, বেসরকারি খাত এবং নাগরিক সমাজের কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
আলোচনায় অংশ নেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্কর, ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. সুজান ভাইজ, প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের পরিচালক ড. সৈয়দ কামরুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, সিনারগোজের কান্ট্রি ডিরেক্টর এশা হুসেইন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর এস এম রহমতউল্লাহ ভূঁইয়া, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডিরেক্টর-ইনফ্লুয়েন্সিং, ক্যাম্পেইন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস নিশাত সুলতানা, সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এম খায়রুল কবির, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ এর স্কুল অব প্রাইমারি অ্যান্ড পাবলিক হেলথ এর ডিন ড. কামরান উল বাসেত ও এনভায়রন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক-এর কোষাধ্যক্ষ এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইদুর রহমান মাশরেকি, সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ এর উপপরিচালক মিস রওফা খানম, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের প্রোগ্রাম হেড সৈয়দা সাজিয়া জামান, বিজিএমইএ-এর পরিচালক ও মাকসা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (কনসোর্টিয়াম ইউনিট) পরিচালক মিস ফাহিমা আক্তার। অনলাইনে যুক্ত হয়ে আলোচনায় অংশ নেন বেন এর চেয়ারপারসন ড. মনজুর আহমেদ।







