ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০১৮’ তে ‘বাংলাদেশ প্যানারোমা’ বিভাগে মনোনীত হয়েছিলো ‘কালের পুতুল’ নামের চলচ্চিত্রটি। ছবিটি জুরি বোর্ডে প্রদর্শনীও হয়ে গিয়েছিলো। সাধারণ দর্শকরাও ছবিটির প্রিমিয়ার শো নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু শেষ সময়ে এসে সেন্সর ছাড়পত্র না পাওয়ায় চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনী হয়নি। তবে এবার সব জটিলতা কাটিয়ে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ও আকা রেজা গালিব পরিচালিত প্রতীক্ষিত ছবি ‘কালের পুতুল’।
গেল ফেব্রুয়ারিতে সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘কালের পুতুল’। আর এবার মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেছেন নির্মাতা। আসছে ৩০ মার্চ বড় পর্দায় মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি। এরইমধ্যে ছবিটির প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্মাতা। সম্প্রতি ইউটিউবে এসেছে ছবির ট্রেলার। যা দেখে অনেকেই ‘কালের পুতুল’ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা করছেন সোশাল মাধ্যমে।
দুর্গম রাস্তা পার হয়ে বিভিন্ন পেশার দশজন এসে হাজির হন পার্বত্য জেলার এক প্রত্যন্ত অঞ্চেলে। যেখানে তাদের স্বাগত জানায় এক আদিবাসী। অতিথি আপ্যায়নের জন্য যাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকেই জানা যায় রশীদ চৌধুরী সেদিন দুপুরে উপস্থিত হয়ে লাঞ্চে যোগ দেবেন। লাঞ্চে অতিথিদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক চমক। রশীদ চৌধুরীর পরিবর্তে এ্কটি ভিডিও সবাইকে স্বাগত জানায় এবং প্রত্যেকের নামে একটি করে হত্যার অভিযোগ করে। যদিও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে অভিযুক্তরা সবাই ছাড়া পেয়ে গেছে, সেই ভৌতিক কণ্ঠ দাবী করে তাদের কেউই নিরপরাধ নয়। রায় দেবার ভঙ্গিতে সে জানায় সেই অপরাধের শাস্তি দেবার জন্যেই তাঁদের সেখানে একত্র করা হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই হতভম্ব হয়ে পড়ে। এতো সেই জনপ্রিয় উপন্যাসের কাহিনী, অনেকেই চেনে, কেউ চেনেনা । প্রথম সুযোগেই সেই স্থান ছেড়ে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। কিন্তু তার আগে, ঘটে প্রথম হত্যাকাণ্ড। খুন হয়ে যায় এগারোজনের একজন।’
-এমন বুক ধুকপুক করা কাহিনীতে এগিয়ে যাবে ‘কালের পুতুল’-এর গল্প। শেষ পর্যন্ত বাকি দশ জনের কী হবে? তারা কি নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবে? নাকি আরো ঘেরাটোপে পড়বে?-এমন সব প্রশ্নের সুরাহা ট্রেলারে নেই। এজন্য আসতে প্রেক্ষাগৃহে।
নিজের নির্মাণে প্রথম সিনেমাতেই কেনো এতো থ্রিল, এতো মিস্ট্রি? জানতে চাইলে নির্মাতা আকা রেজা গালিব চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমি আলফ্রেড হিচকক দ্বারা প্রভাবিত। তাঁর কাজের দ্বারা আমি খুব অনুপ্রাণিত। ‘কালের পুতুল’ আমার প্রথম ছবি। ছবি বানানোর আগে আমি এরকম ভাবছিলাম যে, এমন একটা ছবি বানাবো যা বাংলাদেশের প্রচলিত ধারণার ছবিগুলোকে একটু ধাক্কা দিবে। আমি কাউকে ছোট করছি না। কিন্তু আমি চেয়েছি আমার ছবির মধ্য দিয়ে এরকম একটা গল্প বলতে, যার কিছুই পূর্ব নির্ধারিত নয়। বা মানুষ আগে থেকেই কিছু আঁচ করতে পারবে না।
থ্রিলার ছবিকেও যে শিল্পিতভাবে উপস্থাপন করা যায় সে ইঙ্গিত দিয়ে নির্মাতা আরো বলেন: কালের পুতুল ছবিটি আপাদ দৃষ্টিতে থ্রিলার, কিন্তু এটার মধ্যেও যে আর্টিস্টিক একটা ব্যাপার থাকতে পারে সেটা আমি এই ছবিতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আর আমার মনে হয়, ফিল্ম আসলে কন্টেন্টের উপর নির্ভর করে না, বরং আমি সেটাকে কীভাবে উপস্থাপন করছি তার উপর বেশ কিছুটা নির্ভর করে। আমি আসলে শিল্পিত উপায়ে এই ছবিতে থ্রিলের সাথে ডিল করেছি।
প্রিপ্রোডাকশন থেকে শুরু করে পোস্ট প্রোডাকশন, একটি ছবি নির্মাণে কোনো কোনো কারণে দেশের বাইরে যাওয়া আবশ্যক মনে করেন এখানকার নির্মাতার। কিন্তু ‘কালের পুতুল’ নির্মাতার দাবি, পুরো ছবিতেই বাংলাদেশি সাসপেন্স জিইয়ে রেখেছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন: ক্যামেরা, এডিটিং, সাউন্ড,অভিনেতা অভিনেত্রী মানে কাস্ট এন্ড ক্রু সব কিন্তু বাংলাদেশি। আমাদের অনেকের ধারণা, ভালো কিছু করতে হলে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন আছে, সেটা আমি মনে করি না। ঠিকঠাক চিন্তা করতে পারলে আমরাও ভালো কিছু করতে পারি এটাও আমি দেখাতে চেয়েছি।
প্রায় দুই বছর আগে ‘কালের পুতুল’ ছবিটির শুটিং হয় বান্দরবানের বিভিন্ন লোকেশনে। নাসিফুল ওয়ালিদের চিত্রনাট্যে কালের পুতুল ছবিতে একজন সাইক্রিয়াটিস্টের চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, শাহদে আলী, বীথি রাণী সরকার, লুৎফর রহমান র্জজ, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, আশিষ খন্দকার, ঋতু সাত্তার, আরিফ অর্ক,জান্নাতুন নূর মুন। ছবির সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে ছিলেন সৈয়দ কাশেফ শাহবাজী, সংগীত পরিচালনায় আছেন সানী জোবায়ের এবং সম্পাদনায় সামির আহমেদ।








