বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক এবং প্রথম বাংলা শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’ এর পরিচালক ফজলুল হক। আগামী ২৬ অক্টোবর তার ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। তার সম্মানে এবং স্মরণে নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্যচিত্র ‘সম্মুখযাত্রী ফজলুল হক’।
অভিনেতা-নির্মাতা শহীদুল আলম সাচ্চু প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন। এতে উঠে এসেছে প্রয়াত ফজলুল হকের জীবন ও কর্ম। গত বছরও তার ওপর ‘দ্য ফ্রন্টিয়ার ম্যান’ নামে প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করেন তিনি।
২৬ অক্টোবর ফজলুল হকের ২৭তম প্রয়াণ দিবসে রাজধানীর একটি হোটেলে তুলে দেওয়া হবে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার। এবার পদক পাচ্ছেন চলচ্চিত্র পরিচালনায় আবদুল লতিফ বাচ্চু ও চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় নরেশ ভূঁইয়া।
২০০৪ সাল থেকে ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির পক্ষ থেকে এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির পক্ষে ‘ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার’ প্রর্বতন করেন কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম। সভাপতিত্ব করবেন কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন।
এর আগে ফজলুল হক স্মৃতি পদক পেয়েছেন কবি ফজল শাহাবুদ্দিন, চিত্রপরিচালক আমজাদ হোসেন, সাইদুল আনাম টুটুল, চাষী নজরুল ইসলাম, আহমদ জামান চৌধুরী, হুমায়ূন আহমেদ, রফিকুজ্জামান, সুভাষ দত্ত, হীরেন দে, গোলাম রব্বানী বিপ্লব, আবদুর রহমান, সৈয়দ শামসুল হক, মোরশেদুল ইসলাম, চিন্ময় মুৎসুদ্দী, ই আর খান, অনুপম হায়াৎ, গোলাম সারওয়ার, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, সোহেল রানা, শহীদুল হক, আজিজুর রহমান ও মোস্তফা জব্বার।
১৯৩০ সালে সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ফজলুল হক। পঞ্চাশের দশকে যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যাত্রা শুরু করেনি চলচ্চিত্রশিল্প, সে সময় বগুড়ার মতো মফস্বল শহর থেকে ‘সিনেমা’ নামে চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। পত্রিকাটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সিনেমাবিষয়ক সাময়িকী। সারা দেশেই এটি আলোড়ন তুলেছিল। এ সূত্রে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ফজলুল হক।
এছাড়া ষাটের দশকে ‘প্রেসিডেন্ট’ নামে দেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্রটিও নির্মাণ করেন তিনি।








