মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ১শ’৯৫ জন পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তার অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করতে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। সংস্থাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে ।
আজ বুধবার বেলা ১১ টায় রাজধানীর ধানমণ্ডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল হান্নান খান।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িত মৌলভীবাজারের আলবদর কমান্ডার সামছুল হোসেন তরফদার ওরফে আশরাফ, রাজাকার কমান্ডার নেছার আলী, ইউনুছ আহমদ, উজের আহমদ চৌধুরী এবং মোবারক মিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল হান্নান বলেন, এক বছর তিন মাসের তদন্তকালে মৌলভীবাজারের পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মৌলভীবাজারের আলবদর কমান্ডার আশরাফসহ ৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছেন তারা। এছাড়াও ঢাকার পাশাপাশি অন্য সাতটি বিভাগেও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থার পর্যাপ্ত জনবল রয়েছে। আমরা সাত বিভাগীয় শহরে তদন্ত সংস্থার কার্যালয় স্থাপন করে তদন্ত কাজ পরিচালনার কথা চিন্তা করছি।
আব্দুল হান্নান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। ১৯৫ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর বিচার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবে এই তদন্ত কমিটি। সরকারের নির্দেশনা পেলে ও ক্ষেত্র প্রস্তুত হলে দেশীয় যুদ্ধাপরাধীদের পাশাপাশি পাকিস্তানের ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু হবে।
এই কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আরো ৭২ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। দ্রুত সময়ে মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে চাইলে জনবল এবং ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে।






