নানা সমস্যার পরও গত বছর ২’শ কোটি টাকা পরিচালনা মুনাফা অর্জন করেছে এনআরবিসি ব্যাংক। ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এমন অবস্থায় টাকা তুলে নেওয়ার বদলে গ্রাহকরা নতুন করে আমানত বাড়াচ্ছে। চলতি জানুয়ারির গত ১৫ দিনেই এসেছে প্রায় ২শ কোটি টাকা আমানত।
গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে সক্ষম হওয়ায় এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মোহাম্মদ তালহা।
শনিবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে নতুন প্রজন্মের এনআরবিসি ব্যাংকের ‘ব্যবস্থাপক সম্মেলন-২০১৮’ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলন শেষে তিনি এমন দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের গত বছরের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে কাজী মোহাম্মদ তালহা বলেন, ২০১৭ সালে নানা সমস্যার মধ্যেও ২০১ কোটি টাকা পরিচালনা মুনাফা হয়েছে। আমানত ছিল ৪ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। মোট আমদানির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৮ কোটি এবং রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। আর রেমিটেন্স আহরণ হয়েছে ৬৮ কোটি টাকা।
এছাড়া ২০১৭ সালে এই ব্যাংকে আমানতদারীদের মোট হিসাব সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯০ টি। ঋণ গ্রহণকারী হিসাব সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৮২০টি। বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনার জন্য নষ্টও হিসাব সংখ্যা ছিল ১২ টি। এছাড়া ১৫৪ টি ব্যাংকের সাথে ব্যাংকিং সম্পর্ক ছিল।
পাশাপাশি রেমিটেন্স বাড়াতে মানিগ্রাম, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ হাউসের সাথে সম্পর্ক জোরদার করা হয়েছে বলে জানান ব্যাংকের এমডি।
চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে কাজী তালহা বলেন, ২০১৮ সালে ২৫০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জনের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সে লক্ষ্যে কাজ করতে ব্যাংকের ব্রাঞ্চগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৬ হাজার কোটি আমানত সংগ্রহ ও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আশাকরি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবো।
অনুষ্ঠানে ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিএফও হারুনুর রশিদ বলেন, গত এক বছরের অর্জন নিয়ে পর্যালোচনা ও আগামী বছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারনের জন্য এই অ্যানুয়াল কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। এ বছর আমরা ব্যাংকারদের পারফরমেন্স এর ভিত্তিতে এডি, নন এডি এবং আরবান এ তিন ক্যাটাগরিতে তিন জন করে মোট নয় জনকে গোল্ড, সিলভার এবং ব্রোঞ্জ পদক দিয়েছি।
সম্প্রতি এনআরবিসি ব্যাংক যে সংকটে পড়েছে তা কিভাবে কেটে উঠবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যাংকটির এমডি কাজী মোহাম্মদ তালহা বলেন, আমাদের আমানত ও ঋণ উভয় ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ভাল। এখন আর কেউ আমানত তুলে নেয়ার জন্য আসে না। এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক যেসব বিনিয়োগ তুলে নিবে বলে আগে জানিয়েছিল গ্রাহকরা তারা তা তুলে নিবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে। গত ১৫ দিনে বরং ২শ কোটি টাকা আমানত বেড়েছে। আশা করি সংকট কেটে উঠে এনআরবিসিকে ভাল লাভজনক ব্যাংকে রূপান্তর করতে পারবে বর্তমান পরিচালনা পরিষদ।
“এছাড়া আগামী বছরে যেসব এলাকায় পোশাক কারখানা বেশি, কিংবা যে এলাকায় প্রবাসীর সংখ্যা বেশি সেসব এলাকায় স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ জন্য নতুন নীতিমালা গ্রহণ করা হবে। এনআরবি শাখা খোলা হবে। জোর দেয়া হবে এসএমই খাতে।”
পুঁজিবাজারে তালিকা ভুক্ত হওয়ার জন্য নতুন ব্যাংকগুলোকে তিন বছর সময় দেয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংকের প্রস্ততি কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, যখন এই ব্যাংক যাত্রা করে তখন বাজারের অবস্থা ভাল ছিল না। তালিকাভুক্ত হতে যে পরিমাণ পরিশোধিত মূলধন দরকার তা অর্জনে একটু সময় লাগবে। আশা করি ২০১৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে এনআরবিসি ব্যাংক।







