বিভিন্ন স্টলে থরে থরে সাজানো হরেক রকম তরতাজা সবজি। কোনটি বিক্রির জন্য, কোনটি কেবল প্রদর্শনের জন্য। কিছু স্টলে প্রদর্শন করা হয়েছে সবজি চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি ও মডেল। সবজির পুষ্টিমান সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্যও রয়েছে আলাদা স্টল। নগরবাসী মুগ্ধ হয়ে ঘুরছেন স্টল থেকে স্টলে। বিক্রয়কর্মী বা প্রদর্শনকারীদের কাছ থেকে জেনে নিচ্ছেন নাম না জানা সবজিগুলোর নাম। পছন্দ হলে এবং সুযোগ থাকলে কিনেও নিচ্ছেন।
রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন চত্ত্বরে শুরু হওয়া জাতীয় সবজি মেলা-২০১৮’ ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়। তিন দিনব্যাপী এ মেলা চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকছে মেলার ৮৮টি স্টল।
‘সারা বছর সবজি চাষে, পুষ্টি-স্বাস্থ্য অর্থ আসে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া এ মেলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আজহার আলী মণ্ডল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: এই মেলার আয়োজনে আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য কৃষকদের আরও বেশি বেশি সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা। পাশাপাশি নগরবাসীকে বিভিন্ন সবজির পুষ্টিমান সম্পর্কে ধারণা দেয়া। তাছাড়া যাদের ছাদে সবজি বাগান করার সুযোগ রয়েছে, তারা যেন কার্যকর পদ্ধতিতে সেখানে সবজি চাষ করতে পারেন, সে সম্পর্কে তাদের ধারণা দেওয়া।
‘‘আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের প্রতি ইঞ্চি আবাদী জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসা। তাছাড়া বসতবাড়ি, রাস্তার পাশে, ঘেরের পাশে, পানের বরজে, কচুরিপানার ভাসমান স্তুপের ওপর থেকে সম্ভাব্য যেসব জায়গায় সবজি চাষ করা যায়, সব জায়গায় যেন কৃষকেরা সবজি চাষ করতে পারেন, সে সম্পর্কে তাদের উদ্বুদ্ধ করা।’’
এছাড়া কোন ধরনের জায়গায় কী ধরনের সবজি চাষ করলে ভালো হয় এবং বেশি লাভবান হওয়া যায়, কী ধরনের সার কী পরিমাণ দিতে হবে, কীভাবে পোকামাকড় দমন করতে হবে সে সম্পর্কে বিভিন্ন মডেলও মেলায় উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান এ কৃষিবিদ।
তবে এ মেলায় সরাসরি উৎপাদনকারীর উপস্থিতি নেই। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং কৃষি সম্প্রসারণের অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব সবজি সংগ্রহ করে নিজস্ব কর্মীর মাধ্যমে বিক্রি ও প্রদর্শন করা হচ্ছে।
যে মেলার উদ্দেশ্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা, সেখানে যদি কৃষকই উপস্থিত না থাকেন তবে তাদের কাছে এর তাৎপর্য পৌঁছবে কীভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-পরিচালক বলেন: এটা আসলে জাতীয় পর্যায়ের মেলা। তাই এখানে কৃষকদের অংশগ্রহণ নেই। তবে নিশ্চয় তারা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারবেন। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সরাসরি উদ্বুদ্ধ করতে এবং বিভিন্ন সহায়তা দিতে আমাদের মাঠকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। জেলা-উপজেলা পর্যায়েও আমরা নিয়মিত এ ধরনের মেলার আয়োজন করছি।
সরাসরি উৎপাদকের মধ্যে মেলায় স্টল নিয়ে বসেছেন সাভারের হার্বস মাশরুমের খামারী হাকিম আশরাফ। এ ধরনের মেলা কৃষকদের সবজি চাষে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলতে ভূমিকা রাখে উল্লেখ করে চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: এ ধরনের মেলা হলে আমরা আরও বেশি চাষে আগ্রহী হই। আমাদের উৎসাহও বেড়ে যায়।
মেলায় ঘুরতে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য এমবিএ করা শিক্ষার্থী মরিয়ম হাসনা। মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখার পর চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: মেলায় ঘুরে সত্যিই আমি মুগ্ধ। বিভিন্ন ধরনের সবজি প্রতিদিনই খাওয়া হয়। কিন্তু একসঙ্গে এত সবজি আগে কখনও দেখা হয়নি। তাছাড়া অনেক সবজি আমি চিনতাম না, নামও জানতাম না। আজ জানতে পারলাম।
মেলায় ঘুরে সরাসরি সবজি ক্ষেতে ঘোরার অনুভূতির কথা জানালেন গৃহিনী হান্না আক্তার। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: মেলা ঘুরে আমার মনে হচ্ছে আমি সরাসরি সবজি ক্ষেতে হাটছি। শহরে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা বলে গ্রামে যাওয়া হয়নি কখনও। প্রতিদিন সবজি খাই, রান্না করি, কিন্তু গাছে কীভাবে ধরে থাকে দেখা হয়নি। আজ দেখতে পেয়ে খুবই ভালো লাগছে।
সকালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজান খান।
মেলা উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বীজ নিয়ে কৃষকের সঙ্গে কেউ প্রতারণা করলে, তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আবুল কাশেম ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যান তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন।
ছবি: জাকির সবুজ







