বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র নাবিদ সালেহিনের ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি ১২টি ভাষায় গাওয়ার প্রচেষ্টাকে ত্রুটিযুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
নাবিদের এ প্রচেষ্টাকে ইতিহাস বিকৃতি’র সঙ্গে গানটির রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী এবং আলতাফ মাহমুদের নাম হারিয়ে যাবার পথ প্রসস্থ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তিনি। তিনি তার শঙ্কা জানিয়ে এক ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন: আজ ২১শে ফেব্রুয়ারী ২০১৬ অপরাণ্হে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত এবং আলতাফ মাহমুদ সুরারোপিত অমর সংগীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো’ র সদ্য নির্মিত একটি ভিডিও চিত্র ফেস বুকে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে! ১২টি ভাষায় মূল সুর ও বাণী আশ্রয়ে কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা লক্ষ্যণীয়!
তবে কাজটি ত্রুটিমুক্তি নয়। প্রথমত মূল সুরকার ও গীতিকারের নাম যথাযথ ভাবে উল্লেখিত নাই! বাংগালীর ইতিহাসের প্রধানতম এই সংগীতের সুরকার(composer) এবং গীতিকারের(lyricist) নাম সম্মানের সাথে সংগীতের প্রারম্ভে স্বীকার করে এই নূতন সংগীতায়োজন করা যেতেই পারে।
কিন্তু বেদনার সাথে লক্ষ্য করলাম বারংবার নূতন সংগীতায়োজনের পরিচালক নাভিদ সালেহীনের নাম পর্দায় ভেসে আসে! এই ছেলেমানুষী আচরন বা চাতুর্য এ মহান সংগীতের ইতিহাস বিকৃতি এবং এর স্রষ্টার নাম হারিয়ে যাবার পথ প্রসস্থ করবে বলে আমার শংকা!
কালজয়ী এ সংগীত শুধু একটি শুদ্ধ সংগীতই নয়! মানবজাতির ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণের সরব সাক্ষী! তাই বলে এই অমর সংগীত কি নূতন পরিচালকের হাতে নূতন কালে নবতর রূপ লাভ করবেনা! অবশ্যই সময়ের দাবীতে তা নূতন প্রজন্মের হাতেই ঘটবে! কিনতু তা মূল সুর ও বাণী অক্ষুন্ন রেখে।
দু:খের সাথে বলতে হচছে , নূতন এই আয়োজনে অনেক ক্ষেত্রে মূল সুর রক্ষিত হয়নি ! বিদেশীদের সুর বিচ্যুতির কারণ বোধগম্য। ভিন দেশী ভাষা ও সুরে গাণ গাওয়া প্রায় দু:সাধ্য! তাই তা মার্জনীয় বটে। কিন্তু বাংলাদেশের শিল্পীদের ভুল গাওয়া গ্রহণীয় নয়।
নূতন সংগীত পরিচালকের পরিচালনায় পূর্ব কালের একটি সুর নূতন আয়োজনে ধারণ করা যেতেই পারে কিন্তু তা হতে হবে মূল বাণী ও সুরের প্রতি অন্বিষ্ট থেকে, সংগীত স্রস্টার প্রতি আনুগত্যের বহি:প্রকাশে! একুশের এ গাণের সাথে যে দু’জন স্রস্টা শিল্পীর নাম ওতপ্রোত ভাবে জডি.ত তাঁদের নাম উল্লেখ পূর্বক সঠিক সুরে সংগীত পুন:পরিচালনা করা বান্ছনীয়! না হলে বিকৃত ইতিহাসের দায় তোমাদের নিতে হবে!*
এইমাত্র আনুশেহ আনাদিলের গাওয়া একুশের অমর গানটি শুনে মর্মাহত! কেন এই বিকৃতি!! আনুশের অনেক গান আমার প্রিয়। কিন্তু এ গানটি শুনে বিরক্ত! সঠিক ভাবে গাওয়া হোক!






