হংকংয়ের একটি ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময়কারী প্রতিষ্ঠান থেকে ৬’শ ৫০ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। তবে এবার হ্যাকারদের লক্ষ্য কিছুটা ভিন্ন ছিলো। কোনো ব্যাংক থেকে প্রচলিত টাকা কিংবা ডলারের বদলে ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময় প্ল্যাটফর্ম ‘বিটফাইনেক্স’ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার বিট কয়েন চুরি করেছে তারা।
বিটকয়েনের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা। সেইসাথে ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটিকে হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার বার্তা রয়টার্সকে বিটফাইনেক্স জানায়, তাদের ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময় প্ল্যাটফর্ম থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার বিট কয়েন চুরি করা হয়েছে। আর্থিক মূল্যে যার বাজার দর ৬৫ মিলিয়ন ডলার।
হ্যাকিংয়ের এই ঘটনায় বিট কয়েনের ১০ শতাংশ দরপতন হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে হংকং ভিত্তিক ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময়কারী প্রতিষ্ঠানটি। এই ঘটনার পর আপাতত সকল প্রকার লেনদেন স্থগিত রেখেছে বিটফাইনেক্স।
বিষয়টি নিয়ে নিজেদের ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই ঘটনায় বিটফাইনেক্স উদ্বিগ্ন। কিন্তু সবাইকে আশ্বস্ত করা যাচ্ছে যে দ্রুত হ্যাকিং বিষয়ে কার্যকর সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
বিটফাইনেক্সের আগে ২০১৪ সালে টোকিও ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এমটি গোক্সে’র ১০০ মিলিয়ন ডলার প্রতিষ্ঠান থেকে উধাও হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেটিকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়।
বিটকয়েন কী:
বিটকয়েন হলো ওপেন সোর্স ক্রিপ্টোগ্রাফিক প্রোটকলের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া সাংকেতিক মুদ্রা। বিটকয়েন লেনদেনের জন্য কোন ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান বা নিকাশ ঘরের প্রয়োজন হয় না।
২০০৮ সালে সাতোশি নাকামোতো এই মুদ্রাব্যবস্থার প্রচলন করেন। তিনি এই মুদ্রাব্যবস্থাকে পিয়ার-টু-পিয়ার লেনদেন নামে অভিহিত করেন।
যেহেতু বিটকয়েনের লেনদেন সম্পন্ন করতে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন পরে না এবং এর লেনদেনের গতিবিধি কোনভাবেই অনুসরণ করা যায় না। তাই বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বিটকয়েন ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বৈধ পণ্য লেনদেন ছাড়াও মাদক চোরাচালান এবং অর্থপাচার কাজেও বিটকয়েনের ব্যবহার আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদিও বিটকয়েন ডিজিটাল কারেন্সি হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে এর দর মারাত্মক ওঠানামা, দুষ্প্রাপ্যতা এবং ব্যবসায় এর সীমিত ব্যবহারের কারণে অনেকেই এর সমালোচনা করেন।







