চট্টগ্রাম থেকে: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা প্রথম দুটি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০১ সালের সেই হারে অবশ্য মর্মাহত হওয়ার কিছু ছিল না। অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের জিম্বাবুয়ে তখন বড় শক্তির দল। ১৭ বছর পরের চিত্রটা ঠিক বিপরীত। বাংলাদেশ সফরে টানা তিনটি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হল জিম্বাবুয়ে।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চলা তৃতীয় ওয়ানডে জিতে জিম্বাবুয়েকে টানা তৃতীয় আর চতুর্থবারের মতো হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ পেল বাংলাদেশ। দেড় যুগের ব্যবধানে ভিন্ন দুই চিত্র। ফলটা অবশ্য অনুমেয়ই! হোয়াইটওয়াশেও বাংলাদেশের যেমন খুব গৌরব করার কিছু নেই, জিম্বাবুয়েরও ভেঙে পড়ার কিছু নেই। ক্রিকেটকালে সময়ের স্রোতে দুই মেরুতে এখন দুটি দেশ।
বাংলাদেশের ওয়ানডে খেলার বয়স ৩২ বছর। একটি শিশু যেমন হামাগুড়ি দিতে দিতে উঠে দাঁড়ায়, তেমনই হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটে। প্রথম ওয়ানডে জয়ের স্বাদ পেতে লেগে যায় একযুগ। কৈশোরের কিছু কিছু সাফল্য রেখে যায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ছাপ। যৌবনে হয় ওঠে উদ্যমী। জয়-পরাজয়ের সঙ্গে চলতে থাকে আলিঙ্গন। একটু একটু করে সাফল্যের মধু আহরণে টাইগার ক্রিকেট গড়ে তুলেছে মৌচাক। ফিরিয়ে দিচ্ছে ব্যর্থতার ঋণ।
বিভিন্ন দলের সঙ্গে একটি একটি করে ১৪ বার হোয়াইটওয়াশের শিকার হওয়ার পর শিকারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় বাংলাদেশ। শুক্রবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশের সংখ্যাটা হল ১৩।
সেখানে ৩২ বছরে বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ হয়েছে ৩০ বার। গেল একযুগে সাফল্যের ফানুস উড়িয়ে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে মাশরাফীর দল। সময়টাতে বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ হয়েছে ১৬ বার, করেছে ১৩ বার।
বাংলাদেশ প্রথম হোয়াইটওয়াশ করে কেনিয়াকে, ২০০৬ সালে ঘরের মাঠে। ৪-০তে জিতে নেয় ওয়ানডে সিরিজ। ওই বছরের আগস্টে ফিরতি সফরে কেনিয়া গিয়ে ৩-০তে সিরিজ জিতে আসে। নভেম্বরে জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশ সফরে এলে ৫-০তে সিরিজ জেতে টাইগাররা।
ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে স্কটল্যান্ডকে ২-০তে সিরিজে হারায় বাংলাদেশ। এক বছরে চারটি সিরিজে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার নজির আর নেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে।
২০০৮ সালের মার্চে আয়ারল্যান্ড এলে ৩-০তে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে ৩-০তে জিতে আসে। যদিও ক্যারিবীয়রা দ্বিতীয়সারির দল নিয়ে মাঠে নামে সেবার।
২০১০ সালের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডকে আতিথেয়তা দিয়ে ৪-০তে সিরিজ হারায় বাংলাদেশ। সিরিজটি ছিল ৫ ম্যাচের। একটি ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে।
তিন বছর পর ২০১৩ সালের অক্টোবরে তিন ম্যাচের সিরিজে আবার নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ (৩-০)। ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়েকে ৫-০তে উড়িয়ে দিয়ে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ।
পরের বছর ঘরের মাঠে শক্তিশালী পাকিস্তান ও সাউথ আফ্রিকাকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ (৩-০)। পরেরটি ২০১৫ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এটিও ৩-০। তিন বছর পর আরেকটি সিরিজে জিম্বাবুইয়ানদের হোয়াইটওয়াশ করল টাইগাররা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুটিতে দাপুটে জয় নিয়ে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলেছেন মাশরাফী-মুশফিকরা।
শেষ ম্যাচে জয়ের আশা নিয়ে সাগরিকার স্টেডিয়ামটিতে হাজির হয় অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমী। এ মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হার নেই বাংলাদেশের। ৭টি ম্যাচ খেলে স্বাগতিকরা জিতেছে সব ম্যাচেই। আরেকটি জয়ে বাংলাদেশ দলের ঋণের (হোয়াইটওয়াশ) বোঝা আরেকটু হলেও কমল। শুক্রবার সেজন্য বাংলাদেশকে টপকাতে হয় ২৮৭ রান। সৌম্য ও ইমরুলের সেঞ্চুরিতে সেটি সহজেই পেরিয়ে যায় লাল-সবুজরা।







