এবছর থেকেই পঞ্চম শ্রেণি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না; প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের ঘোষণার সাতদিন না পেরুতেই-এ প্রস্তাবনা এখনই বাস্তবায়ন না করার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা হোঁচট খাবে বলে মনে করছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী।
তবে মন্ত্রী বলছেন, মেধাবৃত্তি প্রশ্নে এ প্রস্তাবনা আটকে গেলেও এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আগের পদ্ধতি বহাল থাকবে।
আর মন্ত্রীর এমন বক্তব্যে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্থ এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হবে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
গত ২১ জুন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত একটি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাই অষ্টম শ্রেণিতে একবারই পরীক্ষা নেয়া হবে। সেই পরীক্ষার নাম কি হবে তা মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
এরপর আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে পিইসি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম সাংবাদিকদের পিইসি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে জানান: পঞ্চম শ্রেণির পরিবর্তে অষ্টম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেনি।
বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাবটি আরও পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার আজকের সিদ্ধান্তে হতবাক হওয়ার কথা জানিয়ে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন: আমি হতবাক হয়েছি। এটা আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা। বড়দের সিদ্ধান্তে ছোটরা বারবার কেনো হোঁচট খাবে? এতে অভিভাবকরাও ক্ষতিগ্রস্থ হবেন-কারণ এ বছর থেকেই তার এ পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলো।
কতিপয় শিক্ষক-কোচিং সেন্টার এবং নোট-গাইড প্রতিষ্ঠান পিইসি কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা লুফে নিচ্ছে অভিযোগ করে অভিভাবকরা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এ বছর থেকেই বাতিলের দাবি করে আসছিলেন।
রাশেদা কে চৌধুরী আরও যোগ করেন, ‘যে সিদ্ধান্তটি আজকে আসলো-এটা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। বরং নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
প্রস্তাবনা বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান: আমাদের প্রস্তাব ছিল পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা বাতিল করা হোক। কিন্তু কেবিনেট দুই পরীক্ষাই রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এখন যদি পিইসি বাতিল করা হয় তাহলে মেধাবৃত্তি দেওয়া হবে কিভাবে? হয়তো এ চিন্তা থেকেই পিইসি পরীক্ষা বহাল রাখা হয়েছে। যতোদিন নতুন সিদ্ধান্ত না আসে ততোদিনই এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
তবে সেসময় মেধাবৃত্তি দেওয়া প্রসঙ্গে বলা হয়েছিল: উপজেলা পর্যায়ে অভিন্ন প্রশ্ন পত্রে পরীক্ষা নিয়ে মেধাবৃত্তি দেওয়া হবে।
পিইসি এখনই বাতিল না করা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, শিক্ষার স্তর পরিবর্তনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কারণ এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে অবকাঠামোগত, শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণসহ অনেক ধরনের কর্মকাণ্ড জড়িত। তাই আগের মতোই পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ও অষ্টম শ্রেণিতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা হবে না বলে ঘোষণা দেয়। এর পরিবর্তে অষ্টম শ্রেণিতে সমাপনী পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানায়। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠায়। কিন্তু আজ মন্ত্রিসভা প্রস্তাবটি নাকচ করে আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে বলে।








