ম্যাচটা হেরেছেন জিদানের শিষ্যরাই। কিন্তু মুখে আকর্ণবিস্তৃত হাসি দেখে সেটা বোঝার উপায় নাই। হেরেও যে কার্ডিফের ফাইনালের টিকিট কাটা হয়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদের। আর জিতেও বিদায় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অ্যাটলেটিকোর জন্য রিয়াল গেরো যেন এক অমোঘ নিয়তি। তারই ফেরে ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় রেকর্ড পঞ্চদশবারের মতো ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
বুধবার রাতে সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে নিজেদের মাঠে প্রতিবেশী রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে অ্যাটলেটিকো। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ গোলের অগ্রগামীতায় ফাইনালে রিয়াল। আগামী ৩ জুন কার্ডিফে তাদের পরীক্ষার প্রতিপক্ষ ইতালীয় জায়ান্ট জুভেন্টাস।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যু থেকে প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হেরে আসার পরও আশা ছাড়েননি অ্যাটলেটিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনে। সমর্থকদের ভরসা দিয়েছিলেন ফিরে আসবে রোজা ব্লাঙ্কোসরা। প্রথমার্ধে সেই প্রতিজ্ঞারই ঝলক দেখা গেছে।
ভিসেন্তে ক্যালদেরনে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ শানিয়েছে অ্যাটলেটিকো। ম্যাচের ৬ মিনিটে কোকের ভলি থেকে ফার্নান্দো তোরেসের নিচু শটে হাত ছুঁয়ে কর্নারের বিনিময়ে বাঁচিয়েছেন অতিথি গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। দুই মিনিট পর কাসেমিরোর মাথা ছুঁয়ে আসা বল ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন স্বাগতিক গোলরক্ষক ইয়ান ওব্লাক।
আক্রমণের ধারা বজায় রেখে ১২ মিনিটে প্রথম গোলের স্বাদ নিয়েছে স্বাগতিকরা। কোকের কর্নার কিক থেকে আসা বলে মাথা ছুঁয়ে রোজা ব্লাঙ্কোসদের এগিয়ে নেন সাউল নিগুয়েজ।
প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয়বার রিয়ালের জাল খুঁজে নেয় সিমিওনের শিষ্যরা। অতিথিদের রাফায়েল ভারানে তোরেসকে ডি-বক্সের মধ্যে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ম্যাচের ১৬ মিনিটে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অ্যান্টনে গ্রিজম্যান। তার গোলার মত শটে হাত ছুঁয়েও দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারেননি নাভাস।
অ্যাটলেটিকোর বিপরীতে প্রথমদিকে বেশ বিবর্ণ ছিল রিয়াল। দ্বিতীয় গোলের পরই ধীরে ধীরে নিজেদের ফিরে পেতে শুরু করে প্রতিযোগিতাটির রেকর্ড এগারোবারের চ্যাম্পিয়নরা।
বিরতির ঠিক তিন মিনিট আগে হীরের মত দামি অ্যাওয়ে গোল আদায় করে নেয় অতিথিরা। হাসি ফোটনো গোলটি ইসকোর। তবে গোলের মূল কারিগর করিম বেনজেমা। ডি-বক্সে তিন প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ফাকায় দাঁড়িয়ে থাকা টনি ক্রসকে ব্যাক পাস দেন ফরাসী ফরোয়ার্ড। তা থেক জার্মান মিডফিল্ডারের জোরালো শট কোনরকমে ঠেকিয়ে দেন ওব্লাক। কিন্তু ফিরতি শটে জাল খুঁজে নিয়ে রিয়াল শিবিরে স্বস্তি এনে দেন ইসকো।
এই গোলে সমস্ত আশাও প্রকারান্তরে শেষ হয়ে যায় অ্যাটলেটিকোর। জিততে হলে পরে আরও তিন গোল করতে হতো তাদের। বিনিময়ে অক্ষত রাখতে হতো নিজেদের জালও। এমন কঠিন সমীকরণ মাথায় নিয়ে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বুলেট গতির ফ্রি-কিকে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ওব্লাক।
অ্যাটলেটিকোর সামনে পরে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান রিয়াল গোলরক্ষক। ৬৬ মিনিটে স্বাগতিকদের দারুণ একটি আক্রমণ প্রতিহত করেছেন নাভাস। পাল্টা আক্রমণ থেকে কারাসকোর গোলমুখি এক শট ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে হেড করেন গামিরো। মাথা ছোঁয়া সেই বলও কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন এই কোস্টারিকান গোলরক্ষক।
রিয়ালও পাল্টা আক্রমণে গেছে। ৭৫ মিনিটে বেনজেমার মাথা ছোঁয়া বল অল্পের জন্য লক্ষ্য খুঁজে না পেলে গোলবঞ্চিত হয় রিয়াল। ৭৮ মিনিটে আবারো গোল হাতছাড়ার ব্যথায় পুড়তে হয়েছে অ্যাটলেটিকোকে। অ্যাঞ্জেল কোরেয়ার শট গামিরো পা ছোঁয়াতে পারলে আরেকটি গোল পেতে পারত স্বাগতিকরা।
বাকি সময়টুকুতে আর গোল পায়নি অ্যাটলেটিকো। পায়নি রিয়ালও। শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যাচ হেরে আনন্দে মেতেছে রিয়াল খেলোয়াড়-সমর্থকরা। আর জয় পেয়েও কষ্টে কেঁদেছেন অ্যাটলেটিকো খেলোয়াড়রা।







