মার্কিন নির্বাচনের প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে মুখোমুখি হয়েছেন রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটন। এই বিতর্কে পরস্পর পরস্পরকে তীব্র বাক্যবাণে পর্যুদস্ত করার চেষ্টা ফুটে উঠেছে। আরো উঠে এসেছে, মার্কিন অর্থনীতির সংস্কার, বর্ণবৈষম্য, জঙ্গিবাদ এবং প্রার্থীদের ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ। বিতর্ক জুড়েই একাধিকবার কথার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন দুই প্রার্থী।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের হফস্ট্রা ইউনিভার্সিটিতে এনবিসি’র সংবাদ উপস্থাপক লেস্টার হফের সঞ্চালনায় এবারের প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক শুরু হয়। দর্শকদের করতালির মধ্য দিয়ে মঞ্চে হাজির হন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন।
শুরু থেকেই বিতর্কের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিলো মার্কিন অর্থনীতির সংস্কার ও দুই প্রার্থীর পরিকল্পনা। রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প ধনীদের ট্যাক্স ছাড় দেয়ার পক্ষে। চীন ও মেক্সিকোর মতো সুলভ শ্রমের দেশে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের কারখানা স্থাপন ও সেখান থেকে করমুক্ত আমদানীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, মধ্যবিত্তের উন্নয়ন ছাড়া মার্কিন অর্থনীতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। পরিবেশবান্ধব শিল্প ও সবুজায়নের মধ্য দিয়ে লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কথা বলেন সাবেক ফার্স্ট লেডি।
বিতর্ক হয়েছে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। হিলারি ক্লিনটন অভিযোগ করেন, ট্যাক্স রিটার্নজমা না দিয়ে নিজের কর না দেয়ার তথ্য গোপন করেছেন ট্রাম্প।
জবাবে ট্রাম্প হিলারির ই-মেইল কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তবে ব্যক্তিগত সার্ভারে ই-মেইল ব্যবহারের ঘটনায় ক্ষমা চান হিলারি ক্লিনটন। বর্ণবৈষম্যভিত্তিক সহিংসতার ইস্যুতে হিলারি বন্দুক আইনে কড়াকড়ি আরোপের পক্ষে হলেও, ট্রাম্প বলেন, আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির উন্নয়ন ছাড়া উত্তরণের পথ নেই।
দুই প্রার্থীই সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন। উঠে আসে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনীতি প্রসঙ্গ। জঙ্গিবাদ ও আইএস দমনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন ট্রাম্প ও হিলারি। বারবার ইরাক যুদ্ধের পক্ষে থাকার অভিযোগ তোলা হলেও কারও কথা না শুনেই একে মিডিয়ার মিথ্যাচার বলে উড়িয়ে দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ও নর্থ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন দুই প্রার্থী।
বিতর্কজুড়ে বেশ কয়েকবার বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিনটন। একাধিকবার হিলারি ক্লিনটন ও উপস্থাপক লেস্টার হফকে থামিয়ে দিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প।







