বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও জাসদের রাজনীতি ও ভূমিকা নিয়ে জাতীয় পার্টির এমপি
কাজী ফিরোজ রশীদ যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকে হিপোক্র্যাটস বচন বলে মন্তব্য
করেছেন প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী। নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক
স্ট্যাটাসে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ফজলুল বারী বলেন, ‘কাজী ফিরোজ রশীদ। গোপালগঞ্জে বাড়ি । শেখ হাসিনার সিট তার সিট। সে কারণে কোনদিন নির্বাচনে দাঁড়াতে বা এমপি হতে পারেননি। এর জন্যে জাতীয় পার্টিতে তার নাম ছিল ফিলিস্তিনি নেতা! কারণ তার কোন আসন নেই।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কাজী ফিরোজ রশীদ। স্বাধীনতার পরেও ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তিনি দল বিশ্বাস সব ত্যাগ করেন! বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়া-এরশাদের নিপীড়নে আওয়ামী লীগের যখন দু:সময় তখন তিনি যোগ দেন এরশাদের জাতীয় পার্টিতে। এখনও তিনি জাতীয় পার্টিতে।’
ফজলুল বারী আরো লিখেছেন, ‘খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যখন জামায়াত জাতীয় পার্টিকে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠন করা হয়, এর অন্যতম কারিগর ছিলেন কাজী ফিরোজ রশীদ। এরশাদের দোদুল্যমান স্বভাবে সেই জোট টেকেনি। এরপর কাজী ফিরোজ এরশাদকে নিয়ে আওয়ামী লীগের দিকে ঝুঁকলেও তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি! কারণ সেই যে তিনি দলের পরিচিত ফিলিস্তিনি নেতা! শেখ হাসিনাতো তার আসন কাজী ফিরোজকে দিয়ে দিতে পারেন না! একারণে তিনি জাতীয় পার্টিতেই আছেন। সুবিধামতো কখনো এরশাদ কখনো রওশন তার নেতা! মহাজোটের শরীক হলেও যে দলে জয় বাংলা শ্লোগান নিষিদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক চিত্র নায়ক সোহেল রানা যে দলে জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে এই কিছুদিন আগেও বিপদে পড়েছিলেন।’
‘বিশিষ্ট শেয়ার ব্যবসায়ী কাজী ফিরোজকে গত পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনে পুরনো ঢাকার একটি আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি করে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে তিনি এমপি! পার্লামেনটে দাঁড়িয়ে তিনি প্রায় আমাদের সুশাসনের বাণী দেন! বঙ্গবন্ধুর জন্য কাঁদেন! কিন্তু তার নেতা কিন্তু স্বৈরশাসক এরশাদ। যিনি স্বৈরাচারী কায়দায় নয় বছর দেশের ক্ষমতা আঁকড়ে ছিলেন! বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেননি। উল্টো বঙ্গবন্ধুর খুনীদের নানা সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন। তা মি: রশীদ বঙ্গবন্ধুর জন্য আপনার এত দরদ! তা আপনি আপনার পুরনো দল আওয়ামী লীগ ছেড়ে জাতীয় পার্টিতে কেনো? বঙ্গবন্ধুর শ্লোগান কী বাংলাদেশ জিন্দাবাদ? বাংলাদেশের সুবিধাবাদী রাজনীতির জন্য কাজী ফিরোজের মতো হিপোক্র্যাটদের বচনও আমাদের শুনে যেতে হচ্ছে’-বলেন তিনি।








