অবশেষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর শরীর ও কাপড়ের
ডিএনএ প্রতিবেদন দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের কাছে হস্তান্তর করেছে
সিআইডি। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের
ফরেনসিক বিভাগে গিয়ে হাতে হাতে ওই প্রতিবেদন তুলে দেওয়া হয়।
সিআইডির সহকারি পুলিশ সুপার মো: মোজাম্মেল হকের পাঠানো সিলগালা করা ডিএনএ প্রতিবেদনটি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পৌঁছে দেন সিআইডির এএসআই মোশারফ হোসেন ও কনস্টেবল শাহআলম। সেখানে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা ও প্রভাষক ডা. শারমিন সুলতানার উপস্থিতিতে খামটি গ্রহণ করা হয়।
চিঠিটি ফরেনসিক বিভাগে নিয়ে যাওয়ার সময় সিআইডি’র সঙ্গে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ক্যামেরা পার্সনরা যান। এ সময় সাংবাদিকদের দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন তনুর মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. শারমিন সুলতানা। তিনি সাংবাদিকদেরকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং ক্যামেরা বন্ধ রাখতে বলেন।
দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, ডিএনএ প্রতিবেদন তিনি পেয়েছেন। এখন তা পর্যালোচনা করে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত দেওয়া হবে।
এর আগে গত ৫ জুন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর শরীর ও কাপড়ের সকল ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন কুমিল্লার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জয়নাব বেগম।
২৯ মে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুস্তাইন বিল্লা নিহত তনুর দাঁত ও সোয়াবের ডিএনএ প্রতিবেদন চিকিৎসকদের সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়ার পর সিআইডির পক্ষ থেকে সবগুলো ডিএনএ প্রতিবেদন এক সঙ্গে দিতে আদালতে আবেদন জানান। এরপর আদালত ওই আদেশ দেন।
গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাস এলাকার ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয় সোহাগী জাহান তনুর লাশ। এ ঘটনায় সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ২১ মার্চ প্রথম ময়ানাতদন্তে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি বলে রিপোর্ট দেয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।
আদালতের নির্দেশে গত ৩০ মার্চ কবর থেকে তনুর মরদেহ উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয় এবং আদালতের নির্দেশেই তনুর পরিহিত কাপড়চোপরসহ ৭টি আলামত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ডিএনএ প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে সিআইডি জানায়, হত্যার আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল।








