বুয়েট ছাত্রদের নিপীড়নের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে বুয়েট প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে মামলা দায়ের করা এবং সুবিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত মামলার কার্যক্রম বুয়েট প্রশাসনকে পরিচালনা ও তদারকি করা, মাদক ব্যবসায়ী স্টাফ কোয়ার্টারের কর্মচারীদের বহিষ্কার, শহীদ মিনার সংলগ্ন মাদকের অভয়ারণ্য ফুট ওভার ব্রিজ অপসারণসহ আট দফা দাবিতে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নিয়েছে হাজারো ছাত্র।
আন্দোলনরত বুয়েট ১৩ ব্যাচের এক ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘গত ২৬ অক্টোবর বুয়েটের শহীদ মিনার থেকে পলাশী মোড় পর্যন্ত বুয়েট ছাত্ররা মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বাধা দিতে আসলে। এক পর্যায় বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার জের ধরে ২৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ৩০-৪০ জন ছাত্র বুয়েট ক্যাম্পাসে হামলা চালায়। হামলায় অর্ণব চক্রবর্তী সৌমিক, তুরাস হক পিয়াল, আবু মুসা আব্দুল্লাহ সৌরভসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। এরমধ্যে গুরুতর আহত সাদমান সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’
ঘটনা বুয়েট প্রশাসনকে জানানো হলে তারা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করেন। এমত অবস্থায় বুয়েটের ছাত্ররা আট দফা দাবিতে মাঠে নেমেছে বলে জানান তিনি।
প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করলে ছাত্রদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ক্যাম্পাসে নিজেদের অনিরাপদ বলে মনে করে। এমতাবস্থায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয় বলে জানান বুয়েট যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের এক ছাত্র।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে না। আন্দোলন বুয়েট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ক্যাম্পাসের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করণে ছাত্রদের আট দফা দাবি মেনে নিতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
তিনি জানান, আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- বুয়েট কর্তৃপক্ষকে সংবাদ সম্মেলন করে সংঘর্ষের দিনের সিসিটিভি ফুটেজ মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করে দুষ্কৃতিকারীদের পরিচয় উন্মুক্ত করা। বুয়েট ছাত্রদের নিপীড়নে জড়িতদের বিরুদ্ধে বুয়েট কর্তৃক মামলা দায়ের ও পরিচালনা করা। পলাশীর মোড় থেকে বকশীবাজার পথে দুটি গেট স্থাপন। ছাত্র নিপীড়নের ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়া ও গড়িমসিকারীদের জবাবদিহি করা। স্টাফ কোয়াটারের মাদক ব্যবসায়ী রাজু, অর্ণব, শুভ, পাপন, নাকিব, ফয়সালকে বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে উচ্ছেদ করা। মাদকের অভয়ারণ্য বুয়েট শহীদ মিনার সংলগ্ন অপ্রয়োজনীয় ফুট ওভার ব্রিজটি অপসারণ করা। বকশীবাজার থেকে পলাশী পর্যন্ত বহিরাগত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করাসহ বুয়েট ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা।
দাবি দাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে জানায় বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।
ছাত্রদের দাবি ও অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য চ্যানেল আই অনলাইনের পক্ষ থেকে বুয়েট ছাত্র কল্যাণ পরিষদের ডা. সত্য প্রসাদ মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে কোনো মন্তব্য না করে ফোন রেখে দেন।







