ফ্রান্সের নিস শহরে বাস্তিল দিবসের অনুষ্ঠানে আতশবাজি প্রদর্শনীর সমাবেশে লরি চালিয়ে ৮৪ জনকে হত্যাকারীর নাম মোহাম্মদ লাওয়েজ বুলেল বলে জানিয়েছে ফরাসি গণমাধ্যম। হামলাকারীকে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস’র সমর্থক বলছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
একই সঙ্গে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়াদেরও পরিচয় মিলতে শুরু করেছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জনেরও বেশি শিশু এবং আরও ৫৪ জনেরও বেশি গুরুতর আহত শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হামলায় নিহতদের মধ্যে আছেন পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন পর্যন্ত এই নির্মম ঘটনায় ২ জন মার্কিন, ৩ জার্মান, ২ জন আর্মেনিয়ান, ১ সুইস এবং ১ ইউক্রেনিয় নাগরিকের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ১ পর্যটক নিহত হয়েছে জানিয়ে আরও ৩ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। নিহতদের মধ্যে নিস শহরের বর্ডার পুলিশের সহকারি প্রধান জান-মার্স লেকলের্সও আছেন।
ফ্রান্সে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ৩ মাস বাড়ানো হয়েছে জরুরি অবস্থার মেয়াদ। ওই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতারা। হামলার জন্য আইএসকে সন্দেহ করছে ফরাসি গণমাধ্যম। হামলার নিন্দা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আট মাসের ব্যবধাে আবারো বড় ধরণের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হলো ফ্রান্স। এবার হামলার লক্ষ্য ছিলো নিস শহর। বাস্তিল দুর্গ পতন দিবসের অনুষ্ঠান উদযাপন করতে বিখ্যাত প্রমেনেদ দেজাঙ্গলে চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। আতশবাজির প্রদর্শনী শেষে হাজারো মানুষের ভিড়ের মধ্যে হঠাৎই ট্রাক চালিয়ে দেয় এক দুর্বৃত্ত। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ২৫ টনের একটি ট্রাক ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে তাদের দিকে ধেয়ে আসে। উপস্থিত জনতার ওপর দিয়ে ট্রাকটি চলে প্রায় দুই কিলোমিটার। মুহূর্তেই অনেক মানুষের মৃত্যু হয়। তাদের বেশিরভাগই শিশু। আনন্দ উৎসব পরিণত হয় শোকে।
তিউনিশীয় বংশোদ্ভূত ৩১ বছর বয়সী ফরাসী নাগরিক ওই ট্রাক চালককে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি দুর্ঘটনা ছিল না, ইচ্ছে করেই ট্রাকটি ভিড়ের মধ্যে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনার পরই স্থানীয় জনগণকে ঘরের বাইরে না আসার পরামর্শ দিয়েছে ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ। নভেম্বরের প্যারিস হামলার পর থেকে চলা জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও ৩ মাস বাড়ানো হয়েছে।
প্যারিস হামলার পর নিস শহরে এ ভয়াবহ হামলায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এর নির্মমতাকে অবিশ্বাস্য এবং নৃশংস বলেছেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোঁয়া ওঁলাদ। ওই হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার না করলেও, হামলায় আইএস-এর দায় স্বীকারের খবর দিয়েছে এক ফরাসি গণমাধ্যম। আজারবাইজান ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ট্রেন্ড-এর খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভয়াবহ হামলার ঘটনায় নিন্দা এবং নিহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়ে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ফ্রান্সের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা।










