পানির তোড়ে ভেসে যাচ্ছে বাঁধ। আর সবকিছু হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়ছেন হাওরের বাসিন্দারা। জেলা প্রশাসকদের দাবি, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। পরিকল্পনাও হচ্ছে নতুন।
জেলা প্রশাসনের কার্যক্রমের কথা জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো আজিমুদ্দিন বিশ্বাস জানান।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, সরকার তাৎক্ষণিক ৫৩৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। সেসবের বিতরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নগদ ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকাও এসেছে হাওরবাসীর জন্য। সেটাও বিতরণ হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচী চালু করা হয়েছে।
‘আমাদের হাওরের ৫০ হাজার পরিবারের জন্য প্রায় ৪,০০০ মেট্রিকটনেরও বেশি চাল এরইমধ্যে চলে এসেছে। প্রতি পরিবার ৫০০ টাকা করে টাকা পাবে, সেই হিসাবে সাড়ে সাত কোটি টাকাও বরাদ্দ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে সেসব বিতরণ শুরু করে দেবো।’
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খোলা বাজারে চাল বিক্রির নির্দেশনাও পেয়েছে জেলা প্রশাসন।
নেত্রকোণা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট এবং মৌলভীবাজারের হাওরবাসীর জন্যও একইরকম সহায়তা বরাদ্দ যাচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কোথাও কোথাও আরো বেশি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়েও জেলা প্রশাসনের ভাবনা আছে বলে জানান আজিমুদ্দিন বিশ্বাস।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করছি। আগামী ফসলের আগে আগে তাদের সার-বীজ কীটনাশক দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাছাড়া এরইমধ্যে কৃষিঋণ স্থগিতের নির্দেশনা রয়েছে কেন্দ্রিয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে।
তাছাড়া, পানি নেমে যাওয়ার পর পুরো এলাকা জরিপ করে পরিকল্পনামাফিক যেন সার্ফেস ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট করা হয় সেই ব্যাপারেও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যেন আগামীবার ফসল নিরাপদে থাকে এবং পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা হয়।
এ বছর বন্যা অন্যান্যবারের তুলনায় অনেক বেশি আগে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন: এবারের বন্যা আগামেরও আগাম এসেছে। চৈত্র মাসে এসেছে। এই সময়ে বন্যার কোনো নজির বিগত কয়েক দশকে নেই। সমস্যার সমাধানে পরবর্তী মৌসুমে বোরো ধানের লাইফ সাইকেল আরো কমিয়ে আনার চেষ্টায় গবেষণা চলছে।
‘১০-১২ দিনের মধ্যে ধান তোলা সম্ভব হলে এই সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন: কৃষি বিভাগ সেই গবেষণা চালাচ্ছে। পাশাপাশি আমরা কৃষকদের বিকল্প ফসল চাষে উদ্বৃদ্ধ করছি।

একইভাবে জেলা প্রশাসনের কার্যক্রমের কথা জানান হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৪০৩ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেসব বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। ভিজিএফ কর্মসূচীর আওতায় ২৯ হাজার পরিবারের জন্য ২৮৪২ মেট্রিকটন চাল এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য তিনমাস ৫০০ টাকা মোট ৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। সেসবের বিতরণ শুরু হয়েছে।
টাকা ও চাল বিতরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন আর কৃষকদের এভাবে বিপদে পড়তে না হয় সেজন্য বিভিন্ন পরিকল্পনাও চলছে বলে জানান এই জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টরা সবাই ব্যাপারগুলো নিয়ে ওয়াকিবহাল রয়েছেন। প্রতিবারই বন্যা হয়। তবে এবার বন্যা এত আগে হয়েছে যে নিচু এলাকায় ধান তোলা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রয়েছে। সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে সেই অনুয়ায়ী কাজ হবে।
হাওর পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক মুশফিকুর রহমান জানান, ত্রাণ কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় এখন কথা বলা সম্ভব নয়।
একইভাবে ত্রাণকাজে ব্যস্ত আছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার ও মৌলবীবাজারের জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম।







