দেশজুড়ে নিজ নিজ
দলীয় প্রতীক নিয়ে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ২৩ এপ্রিল শনিবার
অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তৃতীয় দফা নির্বাচন। কিশোরগঞ্জের নিকলি উপজেলায় দেখা
গেল সহিংসতা মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। ধানের শীষ, নৌকা,
স্বতন্ত্র সকলেই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী মিছিল, মিটিং করে যাচ্ছে।
এই উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়নের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার পরশ মাহমুদ বলেন, আমাদের প্রচার, প্রচারণায় কোন বাধা ও কোন প্রকার হুমকি ধমকি নেই। আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে পারছি।
কিন্তু, হাওরের অন্য এলাকার চিত্র ভিন্ন।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরী এই তিন উপজেলা নিয়ে সংসদীয় এলাকা, নেত্রকোনা- ৪। খালিয়াজুরী ও মদন উপজেলায় নির্বাচন হয়ে গেছে। মোহনগঞ্জ উপজেলায় ২৩ এপ্রিল নির্বাচন হবে। বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে সহিংসতা ও হুমকি ধমকিতে মোহনগঞ্জ উত্তপ্ত। ভোটার, প্রার্থী ও প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা। চলছে ভাঙচুর, প্রতিপক্ষ সমর্থকদের জোরপূর্বক উঠিয়ে নেয়া, মটর সাইকেল পোড়ানো ও নির্বাচনী প্রচারকাজে বাধাসহ নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন।
দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে নেত্রকোনা-৪ এর খালিয়াজুরিতে নৌকা সমর্থক প্রার্থীর ভাই ব্যালটবাক্স ছিনতাইকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. জোসেফের ভোটে জয়ী হওয়ার খবর পেয়েই যুবলীগ নেতা কাউসার অনৈতিক পথে নৌকা প্রতীককে জেতাতে গিয়ে প্রশাসনের গুলিতে প্রাণ দেন।
সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে মোহনগঞ্জ উপজেলায় খালিয়াজুরির চেয়েও ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মানুষ। এই উপজেলার ৩নং তেথুলিয়া ইউনিয়, ৫নং সমাজ সহিলদেও ইউনিয়ন, ২নং বড়তলী বানিয়াহারী ইউনিয়নে চলছে চরম উত্তেজনা। ৬নং ও ৭ নং ইউপি ছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নগুলোতে হুমকি ধমকি চলমান। অথচ এই দুই ইউনিয়নে নৌকার নিশ্চিত বিজয় হবে বলে মনে করছে মানুষ। ৬নং সুয়াইর ইউনিয়নে অাওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসানের চাচাতো ভাই। সেখানে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কোন খবর পাওয়া যায়নি।
২নং বড়তলী বানিয়াহারী ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সাবেক
জাসদ নেতা ও পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগদান কারী হাবিবুর রহমান হাবিব, নৌকা প্রতীকে লড়ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুখলেছুর রহমান। অন্য কোন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। এখানে চরম হুমকি, ধমকি, ধানের শীষ সমর্থকদের জোরপূর্বক নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে বাধ্য করা ও নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। বরুংকা গ্রামে পল্লী চিকিৎসক রিপন ও গাজী নগর গ্রামে দেলোয়ার হোসেনকে জোরপূর্বক মটর সাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ না করার হুকুম দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমি নির্বাচনী প্রচারের স্বাধীনতা চাই, আমার সমর্থকদের জীবনের নিরাপত্তা চাই। জনগণ আমাকে ভোট দেবে কিন্তু আমি ভোট রক্ষা করতে পারব কিনা সে ব্যাপারে সন্দিহান।
আওয়ামী লীগের এক তৃণমূল নেতার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, এসব হুমকি ধমকি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। আধাআধি বা তার চেয়েও বেশী ধানের শীষ পাশ করলে জননেত্রী শেখ হাসিনার কিছু আসে যায় না, এটা সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়। জনগণ চাইলে ধানের শীষ পাশ করাবে।
৫নং সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নূর আহমেদ খান বার্কো নির্বাচনী প্রচার কাজে বাধাদানের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এবং ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই ছাত্রলীগ নেতা বাক্কী খান বিএনপি জামাতের ক্যাডারদের হাতে নিহত হয়েছে। বড় ভাই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা দলীয় প্রচার কাজ করতে যেয়ে স্ট্রোক করে মারা যায়। বিএনপি জামায়াতের আমলে বেশ কয়েকবার আমার বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। আমি ছাত্রলীগ, যুবলীগ পার হয়ে আওয়ামী লীগ করছি। আমাকে নমিনেশন দেওয়া হয়নি, নমিনেশন দিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির আপন ভাগ্নে আমিনুল ইসলাম সোহেলকে। উল্লেখ্য ৫ নম্বরেও সহিংসতা চরমে।
বিএনপি প্রার্থী আহমদ আলী চৌধুরী হীরাকে লাঞ্চিত করেছে আমিনুল ইসলাম সোহেলের লোকেরা। উল্টো তাদের আসামি করে থানায় মামলাও দিয়েছে। ৩নং তেথুলিয়া ইউনিয়নে ঘটছে অনুরূপ সহিংসতা। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আবুল কালাম আজাদ। তার সমর্থকদের আটকে রেখে মারপিটও করা হয় আবার উল্টো তাদেরকেই মামলার আসামি করা হয়। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতির ভাইসহ আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভি,পি মিলন সহ ৫১জন এ মামলার আসামি। উল্লেখ্য এখানে আরও দুজন আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হুমকি ধমকিকারী দলীয় প্রার্থীরা দল, জোট, নির্বাচন কমিশন ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ, ইমেজ নষ্ট ও ইমেজ রক্ষা এসব নিয়ে ভাবছেন না। গাছের গোড়া নড়বড় করে হলেও তারা তাদের বিজয় চান।
ইউপি নির্বাচনের এসব অপকর্ম দল,জোট ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। এ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয় এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে যে লাভবান হবে বিএনপি জামাত ও তার মিত্ররা সেটা স্পষ্ঠ হয়ে উঠছে।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)









