ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহ প্রথমবারের মতো হাউদি বিদ্রোহীদের সঙ্গে জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট রাজধানী সানায় আব্দুল্লাহ সালেহ’র বাড়িতে রোববার দু’ দফা বিমান হামলা চালানোর পর এ ঘোষণা দেন তিনি। হামলার পর তিনি অক্ষত অবস্থায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
বোমা হামলার সময় সালেহ বাসায় ছিলেন না। হামলায় তার তিনজন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়। এছাড়াও তিনটি ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে।
ওদিকে, বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের বেসামরিক জনগণের উদ্দেশ্যে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোকে সহজতর করার জন্য ৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করেছিলেন। হাউদি বিদ্রোহিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইয়েমেনের জনগণের দুর্দশা লাঘবের জন্য যে কোনো উদ্যোগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে তারা। হাউদি বিদ্রোহীদের এই ঘোষণাকে সৌদি আরবের প্রস্তাবিত মানবিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের প্রতি সমর্থনসূচক বলে ধরে নেয়া হয়।
সাময়িক এই যুদ্ধবিরতিতে দুই পক্ষ সম্মত হলে আগামী মঙ্গলবার থেকে তা কার্যকর হবে।
হাউদি বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক পর্ষদ রোববার জানায়, তারা যতো দ্রুত সম্ভব ইয়েমেনের জনগণের উদ্দেশ্যে মানবিক সাহায্য সরবরাহের বাস্তবায়ন চায়। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় তারা রাজনৈতিক বিভিন্ন দলের সাথে আলোচনা করতে চায় বলেও জানানো হয়। তবে আলোচনার ক্ষেত্রে তাদের শর্ত হলো, মার্চের ২৬ তারিখ থেকে ইয়েমেনের উপর বোমা হামলা চালানো সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অর্ন্তভূক্ত কোন দেশে আলোচনার আয়োজন করা যাবে না।
নিজ বাসায় বোমা হামলার পর হাউদি বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্য করে সালেহ বলেন, “তোমাদের উচিত নিজেদের সাথে অস্ত্র রাখা এবং এই যুদ্ধংদেহী আক্রমণকে প্রতিরোধে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা।”
এই আগ্রাসনকে কাপুরোষোচিত উল্লেখ করে সালেহ বলেন, “তুমি যদি যথেষ্ট সাহসী হয়ে থাকো, তবে আসো যুদ্ধ ময়দানে আমাদের মোকাবেলা করো। আমরা তোমাদের সেখানে অভ্যর্থনা জানাবো। রকেট বা যুদ্ধ বিমান থেকে গোলাবর্ষণ করে তোমরা তোমাদের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে পারবে না।”
ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ইয়েমেনের সাদা শহরে জোটের বিমান হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। তার এ মন্তব্যের পরই রাজধানীতে সাবেক প্রেসিডেন্টের বাসভবনে সম্প্রতি এ হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট সালেহ’র তিন দশকের শাসনের অবসানের দাবিতে দেশজুড়ে বছরব্যাপি তুমুল বিদ্রোহের পর ২০১২ সালে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। হাউদি বিদ্রোহিদের সমর্থন দেয়ার অভিযোগ রয়েছে সালেহের বিরুদ্ধে। হাউদিরা এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘ সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আবদুরাব্বাহ মনসুর আল হাদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলারও বিরুদ্ধাচরণ করেন আব্দুল্লাহ সালেহ।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনে মার্চের ১৯ তারিখের পর থেকে চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে। যার মধ্যে অনেকেই বেসামরিক জনগন।







