যেদিকে চোখ যায় শুধু শিল্প কারখানা। বাংলাদেশের বড় বড় কোম্পানি তাদের স্থাপনা বসিয়েছে হবিগঞ্জের মাধবপুর ও শায়েস্তাগঞ্জে। রয়েছে নতুন কোম্পানিও। মূলতঃ নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সুবিধার কারণেই ওইসব এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে এগিয়ে যাচ্ছে শিল্পায়ন।
ঢাকা থেকে ১শ’ কিলোমিটার দূরত্বে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মাধবপুর বাজার ও বাসস্ট্যান্ড পেরিয়ে একটু সামনে গেলেই অন্যচিত্র।
হাইওয়ের দুই পাশেই দেশের বড় বড় কোম্পানির সুবিশাল প্ল্যান্ট। এর মধ্যে বেশিরভাগই উৎপাদনে সক্রিয়। গ্যাস বিদ্যুতের সহজলভ্যতার কারণে সেখানে পৌঁছে গেছে স্কয়ার, প্রাণ-আরএফএল, আরএকে গ্রুপের মতো বড়ো প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় মানুষদের কর্মসংস্থানও হচ্ছে এসব কারখানায়।
মাধবপুর উপজেলার ইউএনও মো: রাশেদুল হাসান বলেন, সম্প্রতি এই বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সরকার এই অঞ্চলকে শিল্প এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে কার্যক্রর পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরাও শিল্প এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
স্টার পোরসেলেইন লিমেটেডের ম্যানেজার (এইচআর অ্যান্ড এডমিন) এ এইচ এম আলমগীর মৃধা বলেন, আমরাই প্রথম এখানে শিল্পাঞ্চল ঘোষিত হওয়ার পর কাজ শুরু করি। এখন পর্যন্ত আমাদের এখানে পাঁচটি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
তবে এখনো গ্যাস সংযোগ না দেয়ায় উৎপাদনে যেতে পারছে না কিছু ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠান। চৌধুরি প্রপার্টি এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের এমডি সানাউল্লাহ চৌধুরি বলেন, গ্যাসের সংয়োগের অনুমোদন পেলেও আমারা এখনো সংযোগ পাই নি। বিভিন্ন মহলে তদবির করেও আমরা এখনো গ্যাস সংযোগ পাই নি। এখন আমাদের ৪০ কোটি টাকার প্রজেক্ট বন্ধ হওয়ার দিকে।
প্ল্যান্টের বেশিরভাগই মাধবপুর উপজেলায়। তবে একটু সামনে এগুলে শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কটি সবচেয়ে বড়ো পরিসরের। এ কোম্পানির অন্যতম বড়ো প্ল্যান্ট এখানেই।
হবিগঞ্জ প্রাণ-আরএফএল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের জিএম হোসান মো: মঞ্জুরুল হক বলেন, জায়গার দিক দিয়ে প্রাণ আরএফএলের সবচেয়ে বড় ইন্ড্রাস্টিয়াল এলাকা এটি। এখানে প্রায় ১২ হাজার শ্রমিক কাজ করছে। এখানে ৮০ শতাংশ শ্রমিক এলাকার স্থানীয়। প্রাণ ও আরএফএলের ২০টি প্রোডাকশন লাইন এখানে রয়েছে। আরো নতুন কিছু প্রোডাকশন শুরু করছি, এখানে আমরা নিরাপত্তার জন্য শিল্পাঞ্চল পুলিশ চাই।
নতুন কারখানা করতে আশেপাশে জমি কিনে রেখেছে আরো কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান।






