মুসলিম অভিবাসী নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপের দেশ স্লোভাকিয়া। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অভিবাসী স্থানান্তর প্রকল্পের অধীনে তারা শুধু খ্রিষ্টানদের অনুমোদন করবে।
নিজেদের নতুন অভিবাসন নীতির আওতায় তুরস্কের একটি ক্যাম্প থেকে ২শ সিরিয় শরণার্থীকে জায়গা দিয়েছে স্লোভাকিয়া।
ইইউর পুনবার্সন নীতির আওতায় ইটালি ও গ্রীস ৪০ হাজার নতুন শরণার্থীকে দেদেশে প্রবেশের অনুমতি দেবে।
স্লোভাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালের মুখাপত্র ইভান মেটিক বলেছেন, অভিবাসী হিসাবে মুসলিমদের গ্রহণ করা হবে না। কারণ তারা স্লোভাকিয়াকে নিজের বাড়ি মনে করে না।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) অভিবাসী স্থানান্তরের ব্যাপারে একটি ‘সমন্বিত ব্যবস্থা’ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
তবে স্লোভাক ওই মুখপাত্র একে বৈষম্যমূলক বলতে অস্বীকার করেছেন।
সম্প্রতি কয়েক মাসে রেকর্ড পরিমাণ অভিবাসী ইইউ’র সীমান্ত পাড় হয়েছে। শুধু জুলাই মাসেই রেকর্ড ১ লাখ ৭৫ হাজার অভিবাসী ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমায়।
এদের বেশির ভাগই সিরিয়া, আফগানিস্তান এবং আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চল থেকে গেছেন। আর এসব অভিবাসনের মূল কারণ দারিদ্রতা, সেই সঙ্গে নিরাপত্তার ব্যাপারও রয়েছে।
ইটালী ও গ্রিস আগামী দুই বছরে ৩২ হাজার শরণার্থী গ্রহণে সম্মত হয়। যা আগের ৪০ হাজারের তুলনায় কম। শরণার্থী গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের জন্য ইইউ যে কোটা পদ্ধতি কথা বলেছিলো স্লোভাকিয়া সেটা গ্রহণ করতে অস্বীকার করছে।
মেটিক বলেন, অভিবাসী সংকট উত্তরণে ইইউকে আমরা সাহায্য করতে চাই। কিন্তু আমরা তাদের জন্য ট্রানজিট দেশ হতে চাই না, যারা স্লোভাকিয়া থাকতে চায় না।
তিনি আরো বলেন, আমরা ৮শ মুসলিমকে নিতে পারি। কিন্তু তাদের জন্য কোনো মসজিদ দিতে পারবো না। আর এটা তো তারা (মুসলিম) পছন্দ করবে না। তাহলে তারা এখানে থাকবে কি করে?’
স্লোভাকিয়ার বক্তব্যের ব্যাপারে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইইউ কমিশনের মুখপাত্র আনিকা ব্রেটহার্ড। তবে তিনি বলেছেন, ইইউ’র প্রত্যেকটি দেশে যেকোনো বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইউএনএইচসিআরের মধ্য ইউরোপের মুখপাত্র বাবর বালোচ বলেছেন, বিশ্বের উদ্বাস্তুদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর যারা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে তাদের জন্য পুনর্বাসন ব্যাপকভাবে প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, উদ্বাস্তু ইস্যুতে সরকারগুলোকে পুনর্বাসন করার সময় আমরা যতটা সম্ভব একটি সমন্বিত নীতি গ্রহণে উৎসাহিত করি। এখানে বৈষম্যের ভিত্তিতে অভিবাসী নির্বাচন করা উচিত হবে না।
চলতি বছর ২ লাখ ৪০ হাজার অভিবাসী অন্য কোনো গন্তব্য ছাড়াই ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে শুধু ইটালি ও গ্রিসের উপকূলে পৌঁছেছেন।
ইইউ’র সবচেয়ে বেশি শরণার্থী আশ্রয় দেয়া জার্মানি বলেছে, এই তারা আরো ৮ লাখ অভিবাসীর আবেদন গ্রহণ করবে। ১৯৯২ সালের ৪ লাখ ৩৮ হাজারের পর এটাই হবে সবচেয়ে বড় আকারে অভিবাসীদের আবেদন গ্রহণ।
অভিবাসীদের ভার বহনে অন্যান্য দেশগুলোকেও আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ এবং ইইউ। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা অভিবাসন ইস্যুতে নিজ দেশের জনগণের বড় ধাক্কার সম্মুখীন।







