জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জাইদ রাদ আল-হুসেইন অপ্রত্যাশিত এক ঘোষণায় বলেছেন, চার বছরের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচনে দাঁড়াবেন না তিনি।
তার মতে, আরেকবার পদটি পাওয়ার জন্য হয়তো তাকে ‘হাঁটু গেড়ে কারও সামনে নতি স্বীকার করতে হতে পারে’, যেটা তার পক্ষে সম্ভব না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনসহ বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী সব সরকারের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটসের হাই কমিশনার হুসেইন।
বুধবার তিনি এক ই-মেইলে জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে তার চাকরির দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি তার সংস্থার বিশুদ্ধতা বিকিয়ে দেবেন না।
‘চিন্তাভাবনার পর আমি ঠিক করেছি দ্বিতীয় চার বছর-মেয়াদের জন্য নির্বাচনে দাঁড়াবো না,’ বলেন হুসেইন, ‘কেননা এটা করতে গিয়ে হয়তো বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাকে হাঁটু গেড়ে মিনতি করার মতো অবস্থায় নামতে হবে; প্রতিবাদী বক্তব্য বন্ধ করতে হবে; আমার কণ্ঠের স্বাধীনতা ও সততা খর্ব করতে হবে – যা আপনাদের কণ্ঠও বটে।’
চলতি সপ্তাহের গোড়ার দিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে জর্ডানের এই রাজপুত্র দ্বিতীয় মেয়াদে তার অবস্থান নিশ্চিত করতে ‘রাজনৈতিক খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোনো ধরনের গোপন চুক্তি করার’ বিষয়টি নাকচ করে দেন।
জাতিসংঘের বেশিরভাগ কর্মকর্তা আইন ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসারে সর্বোচ্চ মেয়াদ পর্যন্ত নিজ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। হুসেইনের পূর্বসূরীদের কেউই অবশ্য দ্বিতীয় মেয়াদে পুরো চার বছর দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।
জাইদ রাদ আল-হুসেইন দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচন করতে চাইলে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস এই সিদ্ধান্তে সমর্থন দেবেন কিনা, বা ভেটো ক্ষমতার অধিকারী পাঁচ সদস্যরাষ্ট্র সেটা হতে দেবে কিনা, তা নিয়ে অনেকদিন ধরেই একটা ধোঁয়াশা চলছিল। কেননা হুসেইন তাদের সবারই সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন সময়।









