প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে পাওয়া এই স্বাধীনতাকে সমুন্নত রেখে এগিয়ে যেতে হবে। গুণীজনদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নতুন প্রজন্মও দেশের কল্যাণে কাজ করবে।
রোববার সকালে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশবরেণ্য ২৪ জন বিশিষ্ট নাগরিককে একুশে পদক তুলে দেওয়া হয়। এসময় গণভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী গুণীজনদের ২০২২ সালের একুশে পদক তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলনে রক্তদানের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামে ধাপে ধাপে বাঙালিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন জাতির পিতা শেখ মুজিব। সেজন্য আমরা একটি আলাদা জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছি। বাঙালি যে একটি জাতিস্বত্তা, তাদের আলাদা সংস্কৃতি আছে, আমাদের আলাদা ভাষা আছে সেটাই প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন তিনি এবং সেভাবেই একটা রাষ্ট্র গড়তে চেয়েছিলেন। যে রাষ্ট্রটি হবে বাঙালীদের রাষ্ট্র, আমাদের রাষ্ট্র। আমরা সেখানে স্বাধীনভাবে আমাদের সংস্কৃতি চর্চা করতে পারব, আমাদের ভাষা সাহিত্য বিকশিত হবে এবং আমরা একটা জাতিস্বত্তা হিসেবে বিশ্ব দরবারে আত্মমর্যাদা নিয়ে পরিচিত হবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর লক্ষ্য ছিল আমাদের ধ্বংস করে দেয়া। তারা কেবলমাত্র ধর্মের অজুহাতে ১২শ’ মাইল দূরত্ব নিয়ে দু’টি খণ্ডকে এক করার চেষ্টা করেছিল। সেজন্য যাদের ভাষা থেকে সবকিছু আলাদা তাদের এক করার জন্য সবার প্রথমে ভাষার উপর আঘাত হানে। সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আজ স্বাধীনতা অর্জন করেছি আমরা। এই অর্জনে প্রত্যেকে সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন। তাদের এই অবদান চিরস্মরণীয়।
তিনি বলেন, আজকে যতজন গুণীজন এখানে পুরস্কৃত হয়েছেন তাদের অনেকেই সেই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৯, ৭০, ৭১ এর মুক্তি সংগ্রামের সবক্ষেত্রেই তাদের অবদান রেখেছেন। তাদেরকে খুঁজে বের করে সম্মানিত করার মাধ্যমে আজকের নতুন প্রজন্মের কাছে তাদেরকে সেই অবদান সম্পর্কে জানানো এবং তাদের পরিচিত করে তোলা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। যেখানে সকল ধর্ম, বর্ণের মানুষ তার অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। দেশের সকল মানুষ শিক্ষায়, অর্থনৈতিকভাবে, সাংস্কৃতিক, শারীরিকভাবে সাফল্য অর্জন করবে। বিশ্ব দরবারে বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলবে এটাই ছিলো জাতির পিতার আকাঙ্ক্ষা এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। ‘৭৫ এর পর সেই চেতনা লুণ্ঠিত হয়। আমরা আরও পিঁছিয়ে পড়ি।
সরকারপ্রধান জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরই আমরা উদ্যোগ নেই সেই চেতনা ফিরিয়ে আনতে। ৫৬ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এমনকি শহীদ মিনার নির্মাণ প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দ করেছিল আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে ২১ ফেব্রুয়ারিকে শুধু আমাদের দিবস নয় বরং সারা বিশ্বে যারা মাতৃভাষাকে ভালোবাসে এবং মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। যার কারণে বিশ্বব্যাপী দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।










