আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলা দেশগুলোর জন্য গত আট মাস সময়কালটি বিশেষভাবে স্মরণীয়। গত বিশ্বকাপের পর থেকে বাংলাদেশ এবং ইংল্যান্ড তাদের নিজ নিজ দেশের মাটিতে প্রতিপক্ষ দলকে যেভাবে বিধ্বস্ত করেছে তা অনেকটাই তাদের নিজেদেরও কল্পনার সীমা অতিক্রম করে যায়।
সফল বিশ্বকাপ যাত্রা শেষে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত করে এবং ভারতকে ২-১ ব্যবধানে হারায়। অন্যদিকে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ইংল্যান্ড ৩-২ ব্যবধানে হারায় গত বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট নিউজিল্যান্ডকে। বিশ্বকাপের দুই সেমিফাইনালিস্ট দল দেশের বাইরে খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষ দলের হাতে অপ্রত্যাশিত পরাজয় বরণ করেন।
ক্রিকেট খেলায় সবসময়ই হোমকন্ডিশনকে একটি সুবিধা হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু গত আট মাসে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে এই সুবিধা যতটা প্রবলভাবে দৃশ্যমান হয়েছে তা অভাবনীয়। গত আট মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া ৭৫টি ওয়ানডে ম্যাচের পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য! স্বদেশে এবং দেশের বাইরে খেলায় জয় ও পরাজয়ের অনুপাত ৬ : ১। স্বাগতিক দেশ জয় দেখেছে ৬১ টি যেখানে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে মাত্র ১০ বার।
হোমকন্ডিশনের এই জয় জয়কার শুরু হয় গত বছরের নভেম্বরে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া ভারত ও শ্রীলংকার মধ্যকার ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ থেকে। সেই সিরিজে শ্রীলংকাকে ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশের দুঃস্বপ্ন উপহার দেয় ভারত।
২০১৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাউথ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সাউথ আফ্রিকাকে ৪-১ ব্যবধানে হারায় অস্ট্রেলিয়া। আর জিম্বাবুয়েকে ৫-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে বাংলার টাইগাররা।
২০১৫ সালের জানুয়ারিতে দেশের মাটিতে ভারত, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার ত্রিপক্ষিয় সিরিজে ৪ ম্যাচের প্রতিটিতেই জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। সাউথ আফ্রিকা ৪-১ ব্যবধানে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
গত অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের আয়োজক দুই দেশই ফাইনাল খেলে। স্বদেশে ৮ ম্যাচের মধ্যে ৮ টিতেই জয় পায় নিউজিল্যান্ড। শিরোপাজয়ী অস্ট্রেলিয়া দেশের মাটিতে ৭ ম্যাচের প্রতিটিতেই বিজয়ী হয়।
দেশের মাটিতে দীর্ঘ ক্রিকেট খরা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক পাকিস্তান সফরে ২-০ ব্যবধানের জয় পায় পাকিস্তান।
গত আট মাসে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের জয়-পরাজয়ের রেকর্ড ১০-১, অস্ট্রেলিয়ার ১৫-১ এবং নিউজিল্যান্ডের ১৪-২।
এই পর্যন্ত ২০১৫ সালের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে আয়োজক দেশের জয় পরাজয়ের অনুপাত ৬.৫, ৩৯ জয়ের বিপরীতে হার ৬টি। যেটা স্বদেশের মাটিতে সাফল্যের ক্ষেত্রে ক্রিকেট ইতিহাসের এক পঞ্জিকাবর্ষের সেরা ফলাফল।
সূত্র: ইএসপিএনক্রিকইনফো






