মালয়েশিয়াকে ৭০ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। রোববার শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। যাদের বিপক্ষে আসরে মুখোমুখি দেখায় দাপুটে জয় পায় সালমা খাতুনের দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ-১৩০/৪, মালয়েশিয়া-৬০/৯
শনিবার কুয়ালালামপুরের কিনরারা একাডেমি ওভাল মাঠে স্বাগতিকরা পাত্তাই পায়নি টিম টাইগ্রেসের কাছে। আগে ব্যাট করে ১৩০ রান তোলা বাংলাদেশ দরুণ বোলিং করে প্রতিপক্ষকে নির্ধারিত ২০ ওভারে আটকে রাখে মাত্র ৬০ রানে।
মালয়েশিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ১৭ রান করেন দুরাইসিনগাম। মাস এলিশা ১৪ ও ইয়াসরিনা ইয়াকুপ করেন ১১ রান। অন্য কোনও ব্যাটার দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি।
৪ ওভারে ৮ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন রুমানা আহমেদ। জাহানারা আলম, খাদিজাতুল কুবরা, নাহিদা আক্তার ও সালমা খাতুন নেন একটি করে উইকেট।
একই মাঠে সকালের ম্যাচে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ভারত।
ভারত-পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে কতটা সাহসী হয়ে উঠেছে মেয়েরা সেটি প্রমাণের সুযোগ হয় পরের দুই ম্যাচে। আগের ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে এসেছিল ৯ উইকেটের জয়। এবার স্বাগতিক শিবির মালয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিয়েই টিম টাইগ্রেস কাটলো স্বপ্নের ফাইনালের টিকিট।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ সূচনা এনে দেন শারমিন সুলতানা ও আয়শা রহমান শুকতারা। ওপেনিং জুটি থেকে আসে ৫৯ রান। টি-টুয়েন্টিতে টিম টাইগ্রেসের সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি এটি। ২৭ বল মোকাবেলায় দুটি চার ও একটি ছক্কায় আয়শা ৩১ করে ফিরলে ভাঙে প্রথম উইকেট জুটি।
ইনফর্ম ব্যাটার ফারাজানা হক এদিন সাজঘরে ফেরেন ৭ রান করে। দলীয় সর্বোচ্চ ৪৩ রান করা শামিমা সুলতানা আউট হন দলের রান তখন ১৬ ওভারে ৮৭। তার ৫৪ বলের ইনিংসে ছিল চারটি চারের মার।
স্লগ ওভারে সানজিদা ইসলামের ১২ বলে ১৫ ও ফাহিমা খাতুনের ১২ বলে তিন চারের সাহায্যে ২৬ রানের ঝড়ে লড়াকু সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। শেষ চার ওভারে আসে ৪৩ রান।
রোড টু ফাইনাল
মালয়েশিয়া রওনা হওয়ার আগে মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে টাইগ্রেস অধিনায়ক সালমা খাতুন জানিয়েছিলেন তাদের লক্ষ্য ফাইনাল। গত মাসে সাউথ আফ্রিকা সফরে যারা টি-টুয়েন্টি, ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই হয়ে ফেরা দলটি ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে কতটা লড়াই করতে পারবে সেটি নিয়েই ছিল ঘোর শঙ্কা।
প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬ উইকেটের হারে সে শঙ্কা আরও বাড়ে। পরের ম্যাচেই অবশ্য পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে চমক দেখায় বাংলাদেশ। প্রথমবার টি-টুয়েন্টিতে তাদের বিপক্ষে জয়ে ভারত-বধের স্বপ্নও দেখে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ রানার্সআপ ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দিয়ে প্রমাণ করে পাকিস্তানকে হারানো ফ্লু ছিল না।
প্রথমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে জয় পাওয়া বাংলাদেশ এশিয়া কাপে টানা ৩৩ ম্যাচ জেতা দলকে হারিয়ে এক ইতিহাসে নাম লেখায়। দারুণ দুটি জয়ে আশা জাগে ফাইনালের। তবে শেষ দুই ম্যাচের একটিতে পা পিছলেই হতো স্বপ্নভঙ্গ। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া পাত্তাই পায়নি সালমা-রুমানাদের ভয়ডরহীন ক্রিকেটের কাছে। পাঁচ ম্যাচে চার জয়ে ভারতের সমান ৮ পয়েন্ট নিয়েই স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ।







