স্কুলের বেতন পরিশোধ করতে না পারায় প্রিন্সিপালের হাতে লাঞ্চনার শিকার হয়ে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের এক বেসরকারি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র সতিশ (১৫) আত্মহত্যা করেছেন।
রাজ্যের করিমনাগার জেলার পেড্ডাপালি এলাকার বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী বুধবার অপমানিত হয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনার ঘটিয়েছেন। তবে আত্মহণনের আগে চরম অপমানের শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে গেছেন এই কিশোর।
একজন কৃষকের সন্তান এবং তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট সতিশের নিয়মিত স্কুলে উপস্থিতির সাথে জীবনেরও সমাপ্তি ঘটে একটি কঠোর সিদ্ধান্তে। তবে তার আগে স্কুলের বেতন পরিশোধ না করার অপরাধে(!) শাস্তির সম্মুখিন হয়ে তিক্ত অপমানের শিকার হওয়ার কথাও একটি ভিডিওতে বর্ণনা করেন সতিশ। একটি রেললাইনে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়।
আত্মহত্যায় প্ররোচণার দায়ে সস্কুলটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিপক্ষে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বেতন পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বুধবার স্কুলটির প্রিন্সিপাল সতিশকে চড় মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং অন্যান্য আরও ছয়জন শিক্ষার্থীর সাথে তাকে ক্লাসরুমের বাইরে দাড় করিয়ে রাখা হয়। পরে সতিশ লাঞ্চবিরতির সময় বাসায় ফিরে আসে এবং বাসায় আসার পথে তার কাজিনের কাছ থেকে ধার করে আনা একটি মোবাইল ফোনে ভিডিওটি ধারণ করে।
ভিডিওটিতে সতিশ স্কুল ইউনিফর্ম পড়ে লাঞ্চনার ঘটনাটি বর্ণনা করে। সতিশ বলেন, সে এরই মধ্যে ৫ হাজার রূপি পরিশোধ করেছে এবং তার পরিবারের পক্ষে আর টাকা দেয়া সম্ভব নয়। শাস্তির শিকার হয়ে সে অপমানিত বোধ করছে এবং জীবন শেষ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানায়। কিশোরটি তার পরিবারের প্রতি তাকে না খোঁজার আহবান জানিয়েছে এবং তার বন্ধুদের বিদায় জানায়।
এছাড়াও বাসার টিভির সামনে একটি নোট রেখে যায় সতিশ যেখানে তার পরিবারকে ভিডিওটি দেখতে বলা হয়। এসময় সতিশের পরিবারের কেউ বাসায় ছিলেন না।
সেদিন বিকেলেই তার বাড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে একটি রেললাইনের উপর তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।
মৃতদেহ পাওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়। সতিশের বাবা-মা স্থানিয় থানায় নিখোজ ব্যক্তি সংক্রান্ত অভিযোগ জানালে বৃহস্পতিবার তার পরিচয় সনাক্ত করা হয়। সতিশের নোট এবং ভিডিও এর পরে খুজে পাওয়া যায়।







