আগেরদিন ১৭৪ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারানোর পর অনেকেই ভেবেছিলেন হ্যামিল্টন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না বাংলাদেশ। ইনিংসে ব্যবধানে হারের শঙ্কাটা জেগেছিল তৃতীয়দিন শেষেই। সেই ব্যবধানটা কত বড় হবে সেটাই ছিল প্রশ্ন।
তবে দ্বিতীয় ইনিংসে অন্য এক বাংলাদেশকে দেখল নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিকদের গড়া রানের পহাড়ের জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ বীরত্ব দেখালেন সৌম্য সরকার ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুজনে মিলে হ্যামিল্টন তো বটেই, বাংলাদেশের সকালটাও রাঙিয়ে দেন। যদিও সৌম্য-মাহমুদউল্লাহর বীরত্বপূর্ণ জোড়া শতকের পরও ইনিংস ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। টেস্টের একদিন বাকি থাকতে সফরকারী বাংলাদেশের বিপক্ষে ইনিংস ও ৫১ রানে জিতেছে কিউইরা।
৪ উইকেটে ১৭৪ রান নিয়ে চতুর্থ দিনে খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান সৌম্য-মাহমুদউল্লাহ। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান সৌম্য। পঞ্চম উইকেটে ২৩৫ রান যোগ করেন দুজনে।
ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করে দলকে বড় সংগ্রহ গড়ে দিতে অন্যতম ভূমিকা রাখেন সৌম্য। ১৭১ বলে ১৪৯ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। মাহমুদউল্লাহ করেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত মাহমদউল্লাহ ১৪৬ রানে আউট হন। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৪২৯ রানে।
সৌম্য তার ১৪৯ রানের ইনিংসে চার মারেন ২১টি এবং ছক্কা পাঁচটি। আর মাহমুদউল্লাহর ইনিংসে চারের সংখ্যা সৌম্যর সমান ২১টি হলে ছক্কা দুটি কম। অর্থাৎ তিনটি ছক্কা মেরেছেন অধিনায়ক। তিনি ফেরার পর ইবাদত হোসেন শূন্য রানে আউট হতেই জয় নিশ্চিত হয় নিউজিল্যান্ডের।
আগেরদিন তামিম ৭৪ ও সাদমান ৩৭ করার পর শনিবার সৌম্য-মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরি। এই চার ব্যাটসম্যান ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসমান দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি। এদিন লিটন দাস ১, মেহেদী হাসান মিরাজ ১, আবু জায়েদ ৩ ও খালেদ আহমেদ ৪ রান করে আউট হন।
স্বাগতিকদের হয়ে পাঁচ উইকেট নেন প্রথম ইনিংসে তিন উইকেট পাওয়া ট্রেন্ট বোল্ট। টিম সাউদি নেন তিন উইকেট। আর প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়া নেইল ওয়াগনার এই ইনিংসে নেন দুই উইকেট।
এর আগে তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ১৭৪ রান তোলে চার উইকেট হারিয়ে। অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসের চমৎকার খেলেছেন বাংলাদেশি ওপেনার তামিম ইকবাল। দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়ে কিছুটা আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত ৭৪ রান করেই সাজঘরে ফিরে যান বাঁহাতি ওপেনার। ৮৬ বল খেলেছেন, ১২টি চার ও একটি ছক্কার মার ছিল তার ইনিংসে।
তবে তামিমের আউটটি ছিল দুর্ভাগ্যজনক। দলীয় ১৩০ রানের মাথায় ৩১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে কিউই পেসার টিম সাউদির বাউন্সারের শিকার হন তিনি। বেশ গতির বলটি থেকে রক্ষা পেতে নুয়ে পড়েও রক্ষা পাননি, তার ব্যাটের কানায় লেগে বলটি গিয়ে জমা হয় উইকেট রক্ষকের হাতে।
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৭১৫ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। এটি দলীয় রানের রেকর্ড। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম ৭০০ রানের দেখা পায় কিউইরা। ২০১৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬৯০ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ।
সেডন পার্কে কেন উইলিয়ামসনের অপরাজিত ২০০ রানের ওপর ভর করে এই বিশাল সংগ্রহ গড়ে নিউজিল্যান্ড। ২৫৭ বলের ইনিংসটি ১৯টি চার দিয়ে সাজিয়েছেন তিনি। এটি তার ২০তম টেস্ট সেঞ্চুরি। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ৫৩ বলে অপরাজিত ৭৬, নেইল ওয়াগনার ৩৫ বলে ৪৭, বিজে ওয়াটলিং ৩১ ও নিকোলাস ৫১ রান করেন।
বাংলাদেশের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন সৌম্য সরকার ও মেহেদী হাসান মিরাজ। একটি করে নেন ইবাদত হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ।
তিন সেঞ্চুরির এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড আগেরদিনের ৪৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে, আরো ২৬৪ রান যোগ করে। আগের দিনই রাভাল ১৩২ ও ল্যাথাম ১৬১ রান করে দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখান।
আর বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করেছিল ২৩৪ রান। কিউইদের ভয়ংকর পেস আক্রমণের বিপক্ষে শুধু তামিম ইকবালই ভালো খেলেছেন। ডি গ্র্যান্ডহোমের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ১২৮ বলে ১২৬ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন তিনি। এটি তার ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট শতক, যাতে ২১টি চার ও একটি ছক্কার মার রয়েছে।
তবে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি মুমিনুল হক (১২), মোহাম্মদ মিঠুন (৮) ও সৌম্য সরকার (১)। তিন ব্যাটসম্যান দ্রুত সাজঘরে ফিরলেও মাঝখানে কিছুটা বিপদে পড়ে সাফরকারী দল। ২২ রানের একটি ইনিংস খেলে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ আউট হয়ে যান। তবে পরে লিটস দাস দলকে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখান। তিনিও ২৯ রান করে আউট হলে সংগ্রহটা খুব একটা বড় হয়নি বাংলাদেশের।










