দ্রুততম সময়ে শেষ হতে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রায়। আগামীকাল এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সমাপ্ত হলে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। নিহত রুপার পরিবার ও মামলার বাদীপক্ষ সকল আসামী সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেছেন।
গত ৩ জানুয়ারি মামলার বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যদিয়ে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু। মামলার বাদী মধুপুরের অরণ খোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম ও রুপার ভাই হাফিজুর রহমান ভাই, পুলিশের জব্দ তালিকা, সুরতহাল রিপোর্ট, ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক, ৫ আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহণকারী ৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৭ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি একেএম নাছিমুল আখতার জানান, এই মামলায় বাদিসহ ২৭ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রমাণে মামলায় আনিত অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। এজন্য তিনি আদালতের কাছে সকল আসামীদের সব্বোর্চ শাস্তি প্রদানের জন্য প্রার্থনা করেছেন।
এদিকে বাদী পক্ষের আইনজীবী এস আকবর খান বলেন, মামলার সকল আসামী আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সকল সাক্ষীগণ আদালতে যথাযথ সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। সবমিলিয়ে আমরা সকল আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আশা করছি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে কর্মস্থল ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রুপা চলন্ত বাসে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রুপার মরদেহ ফেলে রেখে যায়। পরে এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় মহিলা হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে নিহত রুপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা একটি মামলা দায়ের করে।
অন্যদিকে পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত নিহত রুপার ছবি দেখে তার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে থানায় সংরক্ষিত ছবির ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করেন। এরপর ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কে চলাচলরত ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫)কে গ্রেফতার করে মধুপুর থানা পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার আসামীরা প্রত্যেকেই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছে।










