রাজধানীতে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় নিহত মেধাবী শিক্ষার্থী সোনালীর পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে যায়নি কেউ। গ্রেফতার হয়নি ঘাতক চালকও।
১৬ জানুয়ারি বার কাউন্সিলের পাশে জেব্রা ক্রসিং দিয়েই রাস্তা পার হচ্ছিল জীবনে কোনো পরীক্ষায় দ্বিতীয় না হওয়া বেগম রহিমা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবিহা আক্তার সোনালী। ওইদিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে ৮ নম্বর পরিবহনের একটি বাস চাপা দেয় তাকে। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় একটি জীবন।
ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও তাদের পরিবারে শোক জানাতে যায়নি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কেউ। পায়নি কোনো আর্থিক সহায়তাও। দরিদ্র্য এই পরিবারে এখন শুধুই হাহাকার।
সাবিহার মা বলেন, আমার মতো এই বোঝা যেন কারো টানতে না হয়, এই বোঝা খুব কষ্টের। আমাকে কেউ সাহায্য সহযোগিতা করে নাই, আমাকে কেউ সান্ত্বনা জানাতে আসে নি কেউ। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই, কারণ তিনি বোঝেন স্বজন হারানোর বেদনা।
সাবিহার বাবা বলেন, এরকম হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে কখনোই সড়ক দুর্ঘটনা কমবে না।
অভাবের সংসার তাই সোনালীর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করতেন তার মামা।
তিনি বলেন, তার ভাগ্নিই সবাইকেই শেখাতো কি করে রাস্তা পার হতে হয়। চালকের দায়েই সোনালীর মৃত্যু বলে অভিযোগ তার। আমরা সব সময়ই মনে করতাম এই পরিবারের দুর্দশা ঘুচাবে আমার ভাগ্নি। কিন্তু এখন সব শেষ।’
‘গাড়ীর প্রথমবারের ধাক্কায় সাবিহা পড়ে যায় দ্বিতীয় ধাক্কায় ওর মাথা খন্ডবিখন্ড হয়ে যায়। চালকের গাফিলতির জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা মনে করে গাড়ীর চাপায় মানুষ মারলে কিছু হয় না।’
স্কুলে সব সময়ই রোল নম্বর এক ছিলো অদম্য মেধাবী এই শিক্ষার্থীর। মেয়েদের ফুটবলে নিজ স্কুলের ক্যাপ্টেন ছিলো সে। শিল্পকলা একাডেমির তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলো সে। বয়স কম হওয়ার কারণে গতবছর বিটিভিতে তালিকাভুক্ত হতে পারেনি, এবার তালিকায় আসতো সোনালী।
নিজস্ব এই শিল্পীর পাশে দাঁড়ায়নি বাসা থেকে সামান্য একটু দূরের শিল্পকলা একাডেমীও।






