জিততে হলে ভাঙতে হত রেকর্ড। ভারত সেদিকে ভুলেও তাকাল না! হাঁটল নিরাপদ পথে। ইংল্যান্ডের ৩৩৮ রানের জবাবে ৩০৬ করে ৩১ রানে হেরে ইংলিশদের সেমির পথে একধাপ এগিয়ে দিয়েছে কোহলির দল।
অসম্ভব প্রয়োজনীয় এক লড়াই জিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান, বিশেষ করে বাংলাদেশের সেমির পথটা কঠিন করে তুলল ইংল্যান্ড। ৮ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট দাঁড়িয়ে গেছে ১০, পাকিস্তানকে নিচে ঠেলে আবারও উঠে গেছে টেবিলের চারে। নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলেই সেমিতে যেতে আর কারও দিকে চেয়ে থাকতে হবে না ইয়ন মরগানদের।
তবে কিউইদের বিপক্ষে হারলেই সর্বনাশ! ভারত-পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতলে কিংবা ৫ জুলাই বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তান জিতলেই আর শেষ চারে যাওয়া হবে না স্বাগতিকদের। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে থাকতে হবে দর্শক হয়ে।
অন্যদিকে চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম হারে অস্বস্তিতে পড়ে গেছে ভারতও। স্বস্তিতে শেষ চারে যেতে হলে অন্তত একটি হলেও জয় প্রয়োজন কোহলিদের। কাঙ্ক্ষিত সেই জয়ের জন্য শেষ দুই প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকে মোটেও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই তাদের!
সেখানে কঠিনই হয়ে গেল বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের সেমির হিসাব। ইংল্যান্ড ম্যাচ হাতে রেখে নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট ১১। তারা যদি শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে হেরেও যায়, শঙ্কার পিঠে কিছুটা সুবিধাজনক স্থানেও থাকবে। কেননা বাংলাদেশ নিজেদের দুম্যাচ জিতলে পয়েন্ট হবে ১১, আবার পাকিস্তান নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলেও পয়েন্ট হবে ১১। তখন ১১ পয়েন্টে থাকা নিউজিল্যান্ড ইংলিশদের বিপক্ষে হারলেও রানরেটের হিসাবে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানকে পেছনে ফেলতে পারে সমান পয়েন্ট নিয়েও। কারণ উইলিয়ামসনের দলের রানরেট বেশ ভালো অবস্থায় আছে!
ব্যাটিং কিংবা বোলিং, দুই বিভাগেই এজবাস্টনে ভারতের দিনটা শুরু হয়েছে বাজেভাবে। ৩৩৮ রানের রেকর্ড লক্ষ্যে দামামার শুরু আনবেন কী, উল্টো দলকে বিপদে রেখে তৃতীয় ওভারেই খালি হাতে ফিরলেন লোকেশ রাহুল। ক্রিস ওকসকে মারতে গিয়ে তার হাতেই ক্যাচ দিয়ে বসেন ভারত ওপেনার।
শুরুর ধাক্কাটা সামাল দিতে নিজেদের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিংকে তালা দিয়ে আটকে রাখতে হয়েছে রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিকে। ধীরে চলতে গিয়ে দলের প্রথম ৫০ এসেছে ১৪তম ওভারে। ততক্ষণে প্রয়োজনীয় রানরেট বেড়ে হয়ে গেছে আটেরও বেশি।
আস্তে এগোলেও উইকেটের মেজাজ মর্জি ততক্ষণে বুঝে গেছেন রোহিত-কোহলি দুজনেই। রানরেটের চাপটা মাথায় রেখে দুজনেই এগিয়েছেন সমানতালে। ব্যক্তিগত ফিফটির দেখা পেলেন দুজনেই।
পরে নামলেও রোহিতের আগেই ফিফটির দেখা পান কোহলি। ৫৯ বলে ফিফটি তুলে গড়ে ফেলেন কীর্তিও। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে পেলেন টানা পাঁচ ফিফটি!
কোহলির কিছু সময় বাদে আদিল রশিদের বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে রোহিতও নাম লেখান ফিফটির ঘরে। হয়ে ওঠেন আগ্রাসী। রানরেটও বাড়তে থাকে দ্রুত।
তবে ফিফটি পর আর বেশিদূর এগোনো হয়নি কোহলির। লিয়াম প্লাঙ্কেটের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দ্বাদশ খেলোয়াড় জেমস ভিন্সকে ক্যাচ দিয়ে থামে তার ৭৬ বলে ৬৬ রানের ইনিংস।
কোহলি থামলেও থামেননি রোহিত। বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া রিশভ পান্টকে নিয়েই চলে তার লড়াই। ১০৬ বলে তুলে নেন এই বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় শতকও। কিন্তু সেখানেই শেষ। পরের ওভারেই ক্রিস ওকসের বাউন্সারে উইকেটের পেছনে বাটলারকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১০২ রানে।
রোহিত ফেরার পরেই মূল লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে ভারত। ২৯ বলে পান্ট ৩২ ও হার্দিক পান্ডিয়া ৩৩ বলে ৪৫ রান তুললেও প্রথম দিককার রানের চাপটা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি ভারত। মহেন্দ্র ধোনি ৩১ বলে ৪২ করে উইকেটে থাকার পরও ৩১ রান দূরে থাকতেই থামে ভারতের লড়াই।
প্রথমে ব্যাট করা ইংল্যান্ডের বড় রানের মূল কারিগর দুই ওপেনার জনি বেয়ারস্টো ও জেসন রয়ের ১৬০ রানের উদ্বোধনী জুটি। ৫৭ বলে ৬৬ করে রয় ফিরলেও বেয়ারস্টো তার ফিফটিকে টেনে নিয়েছেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পর্যন্ত। ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরিতে বেয়ারস্টো থেমেছেন ১০৯ বলে ১১১ করে, ১০ চারের সঙ্গে ৬ ছক্কাতে।
উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর মোহাম্মদ সামি তোপে ছোটখাটো ধস নামে ইংলিশদের ব্যাটিংয়ে। ৬৯ রান খরচায় ক্যারিয়ার সেরা ৫ উইকেট নিয়েছেন সামি। শেষদিকে ৫৪ বলে বেন স্টোকসের ৭৯ রানের ইনিংসে স্কোরবোর্ডে বড় রান তোলে স্বাগতিকরা।








