সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মানবাধিকার রক্ষায় জনস্বার্থের মামলা (পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন) সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
“স্ট্যান্ডিং ইন পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন: এন আউটলাইন” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বিচারকদের বিচারিক প্রক্রিয়ার পবিত্রতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আইন ও ন্যায় বিচারের মাধ্যমে জনস্বার্থের মামলার সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে জনস্বার্থের বিষয়টি যেন বিচারকদের প্রভাবিত করতে না পারে এবং এক্ষেত্রে অতি উৎসাহ এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘জনস্বার্থের মামলা সুবিধাবঞ্চিত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পথ খুলে দেয়। এটি (জনস্বার্থের মামলা) মানুষের মৌলিক অধিকারকে রক্ষা করে এবং সম্প্রসারিত করে। আর জনস্বার্থমূলক মামলার মাধ্যমে উচ্চ আদালত বিচার বিভাগের সীমানাকে প্রসারিত করে যাচ্ছে।’
সেমিনারে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, ‘ইদানিং দেখা যাচ্ছে কিছু আইনজীবী নিজেকে প্রচারমাধ্যমে তুলে ধরতে বা নিজের প্রচারের জন্য ‘জনস্বার্থের মামলা’ নিয়ে আদালতের এসে হাজির হন। এর ফলে প্রকৃত জনস্বার্থের মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এসব ক্ষেত্রে লাগাম টেনে ধরা দরকার।’
সুপ্রিম কোর্ট অনলাইন বুলেটিন (স্কব) আয়োজিত সেমিনারে জনস্বার্থের মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আরো বক্তব্য রাখেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী এবং হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
শনিবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সেমিনারে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্য থেকে মুক্ত আলচনায় অংশ নেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি মোঃ রেজাউল হাসান, বিচারপতি এমদাদুল হক, বিচারপতি মোঃ আশরাফুল কামাল এবং বিচারপতি এ কে এম আবদুল হাকিম।
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর।







