দুরন্ত গতি, অসাধারণ সুইং আর ইর্য়কারের পশরা সাজিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাঁচ বছর পর ফিরলেন মোহাম্মদ আমির। কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনুসের অনেক গুণই তার মধ্যে বিদ্যমান।
বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন আগেই। আজ মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে নিজেকে ফিরে পাওয়ার মতো বোলিং পারফর্মেন্স উপহার দিয়েছেন আমির। একে একে তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট।
প্রথম ওভারেই মেডেন আদায় করে নেন। লেন্ডেল সিমন্স তার অফ স্ট্যাম্পের উপরের বল আর স্লোয়ার বলগুলো খেলতে রীতিমতো পরাস্ত হয়েছে।
ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আর নিজের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে লেন্ডল সিমন্সকে তামিমের হাতে তালুবন্দী করে সাজঘরে ফেলান।অফ স্ট্যাম্পের উপরে গুড লেন্থের বল দিয়েছিলেন আমির।সিমন্স চেয়ছিলেন মিড অফ দিয়ে বল পার করতে কিন্তু ধরা পড়েন তামিমের হাতে।পরের বলেই আমির তুলে নেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারকে। লেগ স্ট্যাম্পের উপর ফুলার লেন্থের বল দিয়েছিলেন সৌম বলটি ফ্লিক করতে গিয়ে পরাস্ত হয়। আমিরের আবেদনে সাড়া দেয় আম্পায়ার। এ ওভারে আমির মাত্র ৫ রান দেন।
ইনিংসের ১৫তম ওভার করতে আসে আমির। এই ওভারে ১৭ রান দেন আমির। ম্যাচের ১৯ তম ওভার করতে আসে আমির। তখন ম্যাচে টান টান উত্তেজনা। রংপুরের হয়ে ৮০ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন মিজবাহ উল হক ও থিসারা পেরেরা। ওভারের দ্বিতীয় বলেই আমির তুলে নেন পেরেরাকে। মিডল স্ট্যাম্পে গুড লেন্থের বলে পেরেরা স্লগ করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে ওয়াইড লং অনে জীবন মেন্ডিসের হাতে ধরা পড়েন পেরেরা। পরের বলেই আমির তুলে নেন স্বদেশী মিজবাহ উল হককে। অফ স্ট্যাম্পের উপর ইর্য়কাট দিয়েছিলেন আমির, মিজবাহ লেগ সাইডে ঘুরাতে গিয়ে পরাস্ত।প্ল্যাম এলবিডব্লিউ। আমিরের উল্লাস।
তার ৪ উইকেট যদিও চিটাগং ভাইকিংসকে জয় পাইয়ে দেয়নি, তারপরও আমির জানান দিচ্ছেন ১৮ বছরের সেই আমির ২২ বছরে এসে হারিয়ে যাননি। এর আগে পাকিস্তানি ঘরোয়া ক্রিকেট প্যাট্রন্স ট্রফিতে তিন উইকেট নিয়ে রূদ্রমূর্তি ধারণ করেছিলেন।
২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে অধিনায়ক সালমান বাট, আরেক বোলিং প্রতিভা মোহাম্মদ আসিফের প্ররোচনায় মোহাম্মদ আমির জড়িয়ে পড়েন স্পট ফিক্সিংয়ে। জেলে যেতে হয়। পরে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার ব্যাপারটা প্রমাণও হয়।জানান, বাট এবং আসিফের কারণেই তিনি জড়াতে বাধ্য হন এ অনৈতিক কাজে। নেহায়েত অর্থের লোভে।পাঁচ বছরের বহিস্কার এবং ৬ মাসের কিশোর শোধনাগারে রাখা হয় তখনকার ১৮ বছর বয়সী মোহম্মদ আমিরকে।






