যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষিদ্ধের তালিকায় থাকা বেশ কিছু কোম্পানি, সিরিয়ার বিভিন্ন সরকারি বিভাগ এবং প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের স্ত্রী আসমা আল-আসাদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান এবং আস্থাভাজনদের লাখ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে জাতিসংঘ।
ত্রাণ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এ অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়।
তবে জাতিসংঘ দাবি করেছে, তারা কেবল অনুমোদিত অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সাথেই কাজ করেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে এর চেয়ে সহজ আর কোনো উপায় ছিল না বলে দাবি করেছেন জাতিসংঘের এক মুখপাত্র।
অন্যদিকে সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোকে প্রাধান্য দিতেই অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন সমালোচকরা। তারা বলেছেন, এর মধ্যে দিয়ে মূলত আসাদ সরকারকেই সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চাষাবাদ ও খামারের কাজে আসাদ সরকারকে ১৩ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদান দিয়েছে জাতিসংঘ। ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে ৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।
আসাদ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ন্যাশনাল ব্লাড ব্যাংকে ৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অনুদান দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের স্ত্রী আসমা আসাদ এবং তার দাতব্য সংস্থা ‘সিরিয়া ট্রাস্ট চ্যারিটি’-এর সাথে জাতিসংঘের দুটি সংস্থার অংশীদারিত্বের কথা বলা হয়েছে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে। জাতিসংঘ ওই দাতব্য সংস্থাকে প্রায় সাড়ে ৮ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উঠে আসে।
প্রেসিডেন্ট আসাদের চাচাতো ভাই রামি মাখলুফের মালিকানাধীন আল-বুস্তান অ্যাসোসিয়েশনকে ২ লাখ ৬৮ হাজার ডলারেরও বেশি অনুদান দিয়েছে ইউনিসেফ। এছাড়া বিগত কয়েক বছরে রামি মাখলুফের মালিকানাধীন সিরিয়াটেলকে ৭ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।
জাতিসংঘের নিজস্ব নথিতে থাকা তথ্যের উল্লেখ করে গার্ডিয়ান বলছে, আসাদ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এমন আরো ২শ’৫৮টি সিরিয়ান কোম্পানিকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ দাবি করছে, ত্রাণ কার্যক্রমের কারণে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বেঁচেছে। সিরিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে দেশটির সরকারের সঙ্গে কাজ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ।








