সাড়ে ৪ মাস পর হলি আর্টিজান বেকারি মালিকপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। তবে এটি আর রেস্তোরাঁ হিসেবে চালু হবে না। সেখানে বহুতল আবাসিক ভবন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেস্তোরাঁর মালিক সামিরা আহমেদের স্বামী সাদাত মেহেদী। এতোদিন বন্ধ থাকা পাশের লেকভিউ ক্লিনিকটি অবশ্য চালু হচ্ছে ২০ নভেম্বর।
হলি আর্টিজান বেকারি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হলেও পুলিশী নিরাপত্তা আগের মতোই রয়েছে। আরও এক হাজার সিসি ক্যামেরা বসিয়ে গুলশানের সব এলাকায় নজরদারী শুরু করেছে গোয়েন্দারা।
কূটনৈতিক পাড়াসহ বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কূটনৈতিক এলাকায় চলাচলকারী সকল যানবাহন। গুলশান বিভাগের ডিসি জানিয়েছেন, ১২’শ সিসি ক্যামেরা দিয়ে চলছে পুরো এলাকায় নজরদারী।
রাজধানীর গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর রোডের লেকপাড়ে ৫ নম্বর বাড়িটিতে ২০১৪ সালের জুন মাসে চালু হয় হলি আর্টিজান বেকারি। নিরিবিলি এবং খোলামেলা পরিবেশের কারণে অভিজাত এবং কূটনৈতিক পাড়ার রেস্টুরেন্টটি বিদেশীদের কাছে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো। দুই বছরের মাথায় সেই রেস্টুরেন্টটি জঙ্গি গোষ্ঠির টার্গেট হয়। ২০১৬ সালের জুলাই মাসের ১ তারিখ রাতে আধুনিক অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিরা রেস্টুরেন্টটির দখল নেয়। দখলমুক্ত করতে গিয়ে নিহত হন দুই সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা। জঙ্গিরা পরে একে একে হত্যা করে ১৭ বিদেশীসহ ২০ জনকে। ২ জুলাই ভোরে সেনাবাহিনীর অপারেশন থান্ডারবোল্টে ৬ জঙ্গি নিহত হয়। রক্তাক্ত ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকা রেস্টুরেন্টটি এতোদিন আলামত হিসেবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলো পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। রোববার এটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।







