মাত্র একটি ওয়ানডে খেলেই বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছিলেন সৌম্য সরকার। নবাগত ক্রিকেটার হয়েও ২০১৫ বিশ্ব আসরে খারাপ করেননি এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে খেলে ৬ ম্যাচে করেছিলেন ১৮৫ রান। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে জানান দেন সাহসিকতার। ৪ বছরের ব্যবধানে সৌম্য এখন অনেক পরিণত। বাংলাদেশের জার্সিতে খেলে ফেলেছেন ৪১টি ওয়ানডে। অভিজ্ঞ বলেই প্রত্যাশার চাপ থাকবে আসন্ন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। সৌম্য চাইছেন সাহসিকতায় সেই চাপকে হার মানাতে।
গত অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে দ্রুত রান তুলে বাংলাদেশকে এনে দেন দুর্দান্ত শুরু। সৌম্য সহজাত ব্যাটিং ধরে রেখেছেন পরের চার বছরেও। কখনও ছিলেন দারুণ ফর্মে, কখনও আবার ছন্দ হারিয়ে রানে ফেরার সংগ্রাম। মুদ্রার দুই পিঠই দেখে ফেলা বাঁহাতির ব্যাটে আগ্রাসন অবশ্য থামেনি। স্ট্রাইকরেট এখনও একশ (৯৮.৬০) ছুঁইছুঁই। ওয়ানডে ক্রিকেটে যেটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। এই ব্যাটিং প্রতিভার কাছে বিশ্বমঞ্চে দলের প্রত্যাশা আগের চেয়ে বেশি থাকবে সেটি সৌম্য নিজেও উপলব্ধি করতে পারছেন।
‘আসলে আগেরটাতে (২০১৫ বিশ্বকাপ) পুরোই নতুন ছিলাম। এবার যদি সুযোগ পাই অবশ্যই পরিকল্পনা তেমনই থাকবে। হয়তোবা এবার পরিকল্পনা একটু ভিন্ন থাকবে। ঐসময় যেভাবে জুনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে ফ্রি মাইন্ডে খেলেছি, এখন হয়তো অতটা ফ্রি থাকব না, একটু চাপ তো থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যতটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছে, ওখানে গিয়ে কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। আগে যে বিশ্বকাপ খেলেছি, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলেছি, ওখানে যে সাহস নিয়ে খেলেছি সেটা ধরে রাখার চেষ্টা থাকবে।’
ক্রাইস্টচার্চ থেকে ফিরে সৌম্য যোগ দেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর ডেরায়। তিন ম্যাচে বাঁহাতি এ ওপেনারের ইনিংসগুলো যথাক্রমে- ৪৩, ৩৬, ৩৩। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা সুপার লিগে উঠলে সৌম্য খেলতে পারবেন আরও ১০ ম্যাচ। লিগে দলের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করার পাশাপাশি বড় ইনিংস খেলায় পাখির চোখ করছেন এ হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান। রান করা অভ্যাসে পরিণত করে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে চান আত্মবিশ্বাসে ভরপুর থেকে।
‘এখন যেহেতু আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট চলছে। সেখানে যে ম্যাচগুলো পাবো চেষ্টা করবো লম্বা সময় ব্যাটিং করার। বল বেশি করি বা রান বেশি করি, মাঝমাঠে যে পরিস্থিতিটা থাকে সেটি নিয়ে একটু কম চিন্তা করা, এর ভেতরেই আছি। আর দলের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলা গুরুত্বপূর্ণ। যদি এভাবে খেলতে থাকি, তাহলে আমার মধ্যে এই অভ্যাস বেশি জন্মাবে। সেটি নিয়েই বেশি কাজ করছি।’








