নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও নির্মাণের মহান কারিগর হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরেই অভিনয়ে নাম লিখিয়েছিলেন অভিনেতা সালেহ আহমেদ। শুধু তাই নয়, অভিনয় জীবনে হুমায়ূনের নির্মিত কাজেই স্বস্তিবোধ করতেন তিনি। এই দুজনের কেউ এখন বেঁচে নেই। বুধবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন ‘নক্ষত্রের রাত’ খ্যাত অভিনেতা সালেহ আহমেদ। আর তাইতো অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী, নির্মাতা ও হুমায়ূন পত্নী শাওন সালেহ আহমেদের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন, সালেহ চাচা, এবার জমিয়ে গল্প করুন হুমায়ূনের সাথে!
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে চাকরির পাশাপাশি ময়মনসিংহে অমরাবতী নাটমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সালেহ আহমেদ। স্বাধীনতার আগে বিটিভিতে তিনি নিয়মিত অভিনয় করতেন। ১৯৯১ সালে অবসরে যাওয়ার পর হুমায়ূন আহমেদের নাটকে ও চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন তিনি। ধারাবাহিক ‘অয়োময়’ নাটক এবং ‘আগুনের পরশমণি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় জগতে তার দাপুটে পদচারণা শুরু হয়েছিলো। এরপর অসংখ্য টিভি নাটক এবং চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
সে সময় থেকেই মেহের আফরোজ শাওনের সাথে তার পরিচয়। তাইতো তার মৃত্যুতে কিছুটা স্মৃতিকাতর শাওন। সোশাল মিডিয়াতে সালেহ আহমেদকে স্মরণ করে শাওন লিখেন, মানুষটাকে ১৯৯১ থেকে চিনি। ‘জননী’ নাটকে কাজ করতে গিয়ে। কতো কাজ একসাথে! ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিতে আমার বাবা। অনেক রসিক ছিলেন মানুষটা। এমন উপাদেয়ভাবে গল্প বলতে পারতেন! তার মুখে সাধারণ ঘটনাও রসাত্মক গল্পে পরিণত হতো। হুমায়ূন আহমেদ তার গল্প বলার ভক্ত ছিলেন। এই মানুষটার ভক্ত ছিলেন। তার অভিনয়ের ভক্ত ছিলেন।
হুমায়ূন আহমেদ ও সালেহ আহমেদ এখন একই জগতের বাসিন্দা। এখন দুজনে জমিয়ে গল্পে মেতে উঠতে সমস্যা হবে না। শাওন লিখেন, ‘পুষ্প, তুমি কি পেরাইভেটে গান করো?’-‘উড়ে যায় বকপক্ষী’ ধারাবাহিকের এই সংলাপটা বলার সময় তার মুখভঙ্গী, তার অঙ্গভঙ্গী এই মুহূর্তেও চোখের সামনে ভাসছে! দীর্ঘদিন বিছানায় পড়ে ছিলেন। পরম করুণাময় তার কষ্টের অবসান করেছেন। সালেহ চাচা, এবার জমিয়ে গল্প করুন হুমায়ূন এর সাথে…!
২০১১ সালে ব্রেন স্ট্রোক করেন সালেহ আহমেদ। এরপর থেকেই চুপ হয়ে যান এই অভিনেতা। তখন থেকেই মূলত পরিচিত গণ্ডিতে তার যাতায়াত কমতে থাকে। ছোট পর্দার মানুষের সাথে বাড়তে থাকে তার দূরত্ব। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে প্রিয় নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুতে।







