ফুটবলের স্বর্ণযুগে নিয়ে কত শত স্মৃতি ফুটবলপ্রেমীদের মনে। এবার এসব নিয়েই ফেসবুকে পোস্ট দিলেন সাংবাদিক শহীদুল আজম।
ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, একদিকে আসলাম, করিম মোহাম্মদ, সামির শাকির, অশোকা, প্রেমলাল আর পাকির আলীর ছবি। অন্যদিকের ছবিগুলোতে রনজিৎ, এমেকা, মর্তূজা, নাসির হেজাজি, নালজেগার এবং বোরহানজাদে। ২৯ বছর আগে আবাহনী মোহামেডানের ম্যাচ নিয়ে সাপ্তাহিক লাবনীর প্রচ্ছদ ছিলো এমনই। ১৯৮৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল। কিন্তু এর আগে থেকেই ম্যাচ নিয়ে সরগরম হয়েছিল পত্রপত্রিকা। বিশেষ আয়োজনে মেতেছিলো। এসব বিশেষ সংখ্যা বিক্রিও হয়েছে ব্যাপক। পতাকা নিয়ে কিংবা নিজ দলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে সমর্থকদের তর্কের লড়াই কেমন ছিলো- সেটা বলাইবাহুল্য।

সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি লিখেছেন, সাপ্তাহিক লাবনীর এ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৭ সালের ৩১ আগস্ট । আমার দুর্লভ স্মৃতি এ সংখ্যাটি। একজন তরুণ লেখক হিসেবে এটিই আমার প্রথম প্রচ্ছদ রিপোর্ট। যদিও এককভাবে সে রিপোর্টটি করার সুযোগ পাইনি। ফুটবল মাঠে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বীর মর্যাদার লড়াই! সেটিতো আর একজনে কভার সম্ভব না। অগ্রজ ইশতিয়াক আহমেদের সহযোগী হিসেবেই আমি এ প্রচ্ছদ রিপোর্টটি করার সুযোগ পেয়েছিলাম। এতদিন পর এ লেখায় চোখ বুলাতে গিয়ে আমি যেন গ্যালারি কাঁপানো সে সময়ের সমর্থকদের উল্লাসই শুনতে পাচ্ছি।
সবশেষে তিনি লিখেছেন, সত্তর থেকে নব্বই দশকে যারা স্টেডিয়ামমুখী হয়েছেন, কিংবা খেলাচলাকালীন স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়েছেন, তারা বুঝেছেন ফুটবলের শক্তি কতো। ভাবতে ভীষণ কষ্ট লাগছে, বুধবার আবাহনী আর মোহামেডান যখন লড়ছিলো, তখন গ্যালারির বেশিরভাগ স্থানেই ছিলো না কোনো দর্শক। এও কি বিশ্বাস করা যায়! খেলা নিয়ে পত্রিকার প্রতিদিনের ব্যাপক আয়োজনেও আবাহনী ও মোহামেডান ম্যাচ খুব বেশি জায়গা করে নিতে পারেনি। সালাউদ্দিন, সালাম, বাদল রায়- যাদের খেলা দেখার জন্যে একদিন স্টেডিয়ামে উপচে পড়তো দর্শক। তারাই এখন ফুটবল পরিচালনার দায়িত্বে। তাহলে এখন কেনো ফুটবলের করুণ এ চেহারা? জানতে ভীষণ ইচ্ছে করে, সালাউদ্দিন, সালাম, বাদল রায়রা কি দর্শকশূন্য এই গ্যালারি দেখে কষ্ট পান না?








