চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
    https://www.youtube.com/live/kP-IVGRkppQ?si=_Tx54t8FAaVsH3IO
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

সারাহ বেগম কবরী: হারানোর বেদনা যতটা তারচেয়ে বেশি ক্ষতির

জান্নাতুল বাকেয়া কেকাজান্নাতুল বাকেয়া কেকা
৩:৫৯ অপরাহ্ণ ১৭, এপ্রিল ২০২২
মতামত
A A

বরেণ্য অভিনেত্রী গুণীজন সারাহ বেগম কবরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গতবছর এদিনে আপনাকে হারিয়েছি আমরা। প্রিয়মুখ আপনার রুহের মাগফেরত কামনা করে আপনার স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানায়।

প্রিয় গুণীজন কবরী বাংলা চলচ্চিত্রের সুদিনের ইতিহাস আপনাকে ঘিরেই আবর্তিত। প্রয়াত প্রিয়মুখ সারাহ বেগম কবরী আপনাকে হারানোর প্রথম বছর। তবে মনে হচ্ছে এই তো সেদিন আপনার চপল ছন্দে, মিষ্টি মুখের কথা মালায় মোহিত হতাম। সেই সব দিনের স্মরণে আপনাকে হারানোর বেদনা যতটা তারচেয়ে বেশি ক্ষতির। তাই আপনার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে লাখো ভক্তের মত আমিও শোকাচ্ছন্ন।

খানিক বিষণ্নতা নিয়ে সত্তর দশকের প্রিয়মুখ মিষ্টি মেয়ে কবরী আপনাকে অতীতের স্মৃতিতে ফিরছি। আপনি ছিলেন আমার বাবার সময়কালের স্বপ্নের নায়িকা। সেই ছোট্ট বেলায় দেখেছি আমাদের ভুলিয়ে ভালিয়ে বাসায় রেখে আব্বা আম্মা সন্ধ্যার শোতে দেখতে যেতেন সুতারং, দেবদাস, দুই জীবনের মত ছবি। ফিরে তারপর ক’দিন চলতো আব্বার মনে রেখাপাত করা মিষ্টি মেয়ে কবরীর অভিনয় আর তার লিপে গান। সেই শুনে শুনে আমরাও বেড়ে উঠেছি বাংলা চলচ্চিত্রের সেই সোনালী দিনলিপির মাধুর্য্যে।

সেই প্রিয় মুখ শ্রদ্ধার কবরীর সাথে আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ফাইভ স্টার হোটেল ওয়াশিংটনে সেমিনারে অংশ গ্রহণের সুযোগ হয়েছে ২০০৯ সালে ডিসেম্বরে। এর আগে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেখা হল। হল চোখাচোখিও। জানতাম এইচআইভি/এইডস ইস্যুতে সূদুর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় সাত দেশের সাংবাদিক হিসেবে আমি, নীতিনির্ধারক হিসেবে পার্লামেন্ট মেম্বার খ্যাতিমান সারাহ বেগম কবরী এবং নারী নেতৃত্বরাও যাবেন।

দেশের স্বনামখ্যাত টেলিভিশন চ্যানেলে কাজের সুবাদে বহুবার আপনাকে বিভিন্ন মেলা পার্বনে, অনুষ্ঠানে চ্যানেল আইতে কাছ থেকে দেখেছি। এবার চারদিনের আন্তর্জাতিক সেমিনারে একই কনফারেন্স রুমের চার দেয়ালে পাশাপাশি আসনে বসে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল অবধি আলোচনা সমালোচনায় আপনার উপস্থিতি দেখিছি যা ছিলো আমার জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতার রোমাঞ্চকরও বটে। এ কারণে আপনাকে কাছ থেকে দেখার ও কিছু লেখার সুযোগ পাচ্ছি।

Reneta

এদেশের চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম পুরোধা মিষ্টি মেয়ে চলচ্চিত্রের বড় পর্দা থেকে টেলিভিশনের কল্পনার ম্যাজিক বাক্সের সেই প্রিয়মুখ কবরীর সাথে একই সেমিনারে অংশ নেব, আর দেশ থেকে দূরে অজানা ভিন্ন দেশে আপনি থাকবেন আমার কাছাকাছি কেমন যেন নির্ভরতা জুগিয়েছিল আমায়! কেমন মায়াময় আবহে আমার প্রথম বিদেশ যাত্রায় অলক্ষ্যে অজান্তেই সাহস ছিলেন আপনি! সে যাত্রায় আপনাকে খুব কাছ থেকে দেখার আকুলতায় আমার আমেরিকা যাত্রার আরেক আকর্ষণ ছিলেন সারাহ বেগম কবরী।

Center for Women Policy Studies, The Centre for Development Population Activities, & International Women’s Media Foundation এর আয়োজনে South Asia initiative on Women’s and HIV/AIDS শীর্ষক (৭-১০) ডিসেম্বরের ২০০৯ খুব কাছ থেকে তাকে দেখার সুযোগ হয়। তবে এর আগে ওয়াশিংটনে পোঁছার আগে কাতারের রাজধানী দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে প্রায় ৮-১০ ঘণ্টার ট্রানজিট। সেই সুবাদে বর্ণাঢ্য এই গুণী শিল্পীর সাথে এক দোহারে কাতার এযারের দেয়া হোটেলে ডাবল বেডের এক রুমে রাত কাটিয়েছি। যদিও এযারপোর্ট থেকে বাংলাদেশ পার্টিসিপেন্ট হিসেবে এই গুণীজনের সাথে এক সালাম দিয়ে সৌজন্য বিনিময় ছাড়া সেভাবে আর কোন কথা হয়নি। ফ্লাইটে উঠে যে যার আসনে বসে বাংলাদেশ পার্টিসিপেন্টদের দু-একজনকে দূর থেকে দেখা যায় অবস্থা। যাত্রা শুরুর খানিক পরে হঠাৎই ফ্লাইট এ্যাটেনডেন্ট এসে আমাকে বললেন, আপনার সিটটি বদলাতে হবে। আমি ঘাবড়ে গেলাম। এয়ার হোস্টেজ মেয়েটি দারুণ অমায়িক ভাবে বললেন, কাতার এয়ারের ঢাকা অফিস থেকে আপনাকে ইকোনমি ক্লাস থেকে বিজনেস ক্লাসের আসনটি দিয়েছে। সো দয়া করে আমার সাথে আসুন….।

আমি বিস্মিত কারণ আন্তর্জাতিক তিন প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণ। সবই তাদের পাঠানো, তাই হঠাৎ ইকোনমি ক্লাস থেকে বিজনেস ক্লাসের বিষয়টি কিভাবে হলো তা বোঝার চেষ্টা করছি, ফ্লাইট এটেন্ডেন্ট মেয়েটি আমার ইতস্ত ভাব দেখে খুলেই বললেন, ঢাকা অফিসের লিপি আপা আমাদের ইন্সট্রাকশন দিয়েছেন। তখনই মনে পড়লো (তার নামটি আজ পুরো মনে নেই) । গুলশানে কাতার এয়ারলাইন্সের অফিসে আমার টিকেট দেয়ার সময় লিপি আপা টেলিভিশন নিউজে আমার ভয়েস আর সবমিলিয়ে তার মুগ্ধতার বিষয়টি খুব করে জানান দিয়েছিলেন।

ততক্ষণে মনে পড়লো, তাই সানন্দে রাজি হলাম। বিজনেস ক্লাসে ঢাকা থেকে দোহার প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার আমার যাত্রা হল শুরু। ফ্লাইটে পাশের সহযাত্রী কাতার প্রবাসী জোবায়ের ভাই এর সাথে আলাপ পর্বে কাতারের  অর্থনীতি,বিনিয়োগ বান্ধব রাতের কাতারে বিদেশী নারী-পুরুষদের নিরাপত্তা, তাদের উপযোগী রাতের কাতারে নানান আয়োজন, সর্বপরি আবর সাগরের মধ্যে বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের বিনিয়োগে পিঙ্ক সিটি বা পার্ল কাতার (Pearl Qatar) বা কৃত্রিম দ্বীপ ঝিনুকের ভেতর মুক্তার আদলে গড়ার অনবদ্য কাজ সবই আসলো আলোচনায়। রাতে কাতারে নেমে আমারা বাংলাদেশের চার পার্টিসিপেন্ট শ্রদ্ধেয় সারাহ বেগম কবরী, মহিলা পরিষদের রাখি দিদি, একটি জাতীয় ইংরেজী দৈনিকের জেলা প্রতিনিধি রিমা আপা এবং আমি কেকা চারজনে পরদেশে আপন হলাম।

ফ্লাইট থেকে নেমেই দেখলাম রাসভারি দারুণ গুটিয়ে থাকা কবরী ম্যাডাম কখন যেন টিমের নেতৃত্বে, সবচেয়ে ছোট্ট সদস্য হিসেবে আমাকে খুঁজলেন তারপর কাছে ডেকে বললেন, এই মেয়ে এক সাথে আমার পাশে পাশে থেকো। সো প্রথমবার বিদেশ যাত্রায় আমি মাময় আবহে দারুণ স্বস্থিতে! ভালো ভালোই এমিগ্রেশনের সব কাজ শেষ হলো। তবে ঝামেলায় পড়লেন রাখিদি। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার ট্রানজিটে এয়ার কতৃর্পক্ষ হোটেল দিলেও রাখিদির পাসপোর্ট মলিন এই অজুহাতে তিনি এয়ারপোর্টের বাইরে যাবার অনুমতিই পেলেন না। বেচারা রাখিদির জন্য টিমের অলিখিত নেতা সারাহ কবরীও কয়েক দফায় চেষ্টা করলেন। নানান কথায় একগুয়ে ইয়া বড় বড় জোব্বা পড়া আবরদের সাথে দেন দরবার করলেন, বোঝাতে চেষ্টা করলেন, দেখো একা একজন নারী সারারাত তিনি কিভাবে একা এয়ারপোর্টের এক চেয়ারে বসে কাটাবেন? তোমরা একটু সদয় হও একজন নারীর প্রতি, সে আমার বন্ধু, খুব কাছের স্বজন দয়া করে তাকে আমাদের সাথে হোটেলে যেতে দাও ইত্যাদি! ততক্ষণে দেখলাম গুণীজন কবরীর সেলিব্রিটির সেই অহম কোথায় যেন হাওয়া। বরং ব্যক্তি কবরীর অন্যের প্রতি সহজাত মায়া, দরদ আর আকুতি দেখলাম। কিন্ত দোহার বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট ডেস্কের সাফ জবাব হবে না….। সো বাধ্য হয়ে আমি, কবরী ম্যাডাম এবং রিমা আপা এই তিনেই চললাম হোটেলে।

এমন সময় ফ্লাইটে আমার পাশের সেই সহযাত্রী পেশায় কাতার এয়ারেরই পাইলট। তিনি কবরী ম্যাডামকে সালাম দিলেন। নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, কাজের সুবাদে তিনি কাতারে আছেন দীর্ঘদিন। সকালে আপনাদের ফ্লাইট, আর কয়েক ঘণ্টা হোটেলে না ঘুমিয়ে আপনাদের রাতের কাতার দেখতে চাই! আমিই আপনাদের সময় দেব। পাশেই আমার বাড়ি, সন্তান পরিবারসহ সেখানেই থাকি। আপনারা হোটেল ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিন, আমি আমার গাড়ি নিয়ে আধাঘণ্টার মধ্যে আসছি। বেগম কবরী দারুণ স্নিগ্ধতায় জোবায়ের ভাইয়ের (সরি পুরো নামটি আজ ভুলে গেছি খানিক ভুল হতে পারে) সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন, কবরী বললেন, দেখি রুমে গিয়ে ভালো লাগলে নামবো তা না হলে রিমা ও কেকা ওরা ছোট মানুষ ওদের ঘুরে দেখাতে পারেন আপনি। তবে বেশি সময় নেবেন না। সকালে আবার ফ্লাইট। কবরী ম্যাডাম অনুমতি দিলেন আমি তখন দারুণ আনন্দে উদ্বেলিত। যদিও একটু ভয় ভয় করছিল, একে তো রাত আবার বিদেশ বিভূঁইয়েতে! তবে সাহস করছি কারণ ফ্লাই করার আগেই কাতারের নতুন অর্থনীতি, অবকাঠামো আর সাগরের মধ্যে প্রমোদ নগরি গড়ে তোলার ভিনদেশী বিনিয়োগের গল্পগুলো জেনে নিয়েছি।

আর এটাও জেনেছি যে, কাতারে বিদেশী বিনিয়োগে নতুন জেগে উঠা অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত্তি ভিন দেশীরা। এর একাজে ইউরোপ আমেরিকানদের নিজেদের মত চলাফেরায় অবাধ সুযোগ সুবিধা আর সাথে নিরাপত্তাও দিচ্ছে কাতার সরকার। তাছাড়া আমি ও রিমা আপা দুইজনেই সাংবাদিক। আমার বাড়তি পাওয়া আমি টেলিভিশন সাংবাদিক। কাতারের বিশাল এযারপোর্টে বহু বাঙ্গালীও দেখলাম। ঐ অল্প সময়ে তাদের অনেকেই আমাকে দেখেই আমার নামের পুনরাবৃত্তি করে বললেন, আপনি জান্নাতুল বাকেয়া কেকা চ্যানেল আই আপা না! ভালো লাগলো আবার মনে মনে বেশ যেন সাহসও পেলাম।

ফ্লাইটে পাশের সহযাত্রী জোবায়ের ভাই যখন কাতারের নানান উন্নয়নে গল্প বলছিলেন, ভ্রমণের আনন্দে আমি উচকিত। আমার আগ্রহ দেখে জোবায়ের ভাই আমাকে প্রস্তাব করলেন আপনাদের রাতের কাতার ঘুরিয়ে দেখাতে পারি? আমি আমার দেশ বা ঢাকা থেকে কেউ আসলে সুযোগ থাকলে আমি এই কাজটি করি বললেন তিনি। আমি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছি বটে, তবে ভাইয়াকে বললাম, আমাদের টিমের সিনিয়র পার্সন কবরী ম্যাডাম। তিনি সেলিব্রেটি এখনো পর্যন্ত তাঁর সাথে আমাদের দুরত্ব বিশাল। তিনি বিষয়টি কিভাবে নেবেন তা জানা নেই আমার। তবে গ্রুপের আরেক সিনিয়র সদস্য রেখাদির সাথে আমার সম্পর্ক খুব আন্তরিক । রেখাদি’কে আপনি প্রস্তাব করুন তিনি রাজি হলে আমি, আমরা সবাই মিলে যেতে পারি। কিন্তু এয়ারপোর্টেই যখন রেখাদি আটকে গেলেন, আমাদের সাথে বাইরে যাবার সুযোগ পেলেন না তখন হতাশ হলাম। ভাবলাম, আর কে আমাদের সাথে যাবেন আর কেই বা বাইরে যাবার অনুমতি দেবেন?

এই অবস্থায় স্বয়ং কবরী যখন অনুমতি দিলেন তখন তো যাওয়াই যাবে, আমি আর রিমা আপা দুই জন দুইজনের হাত ধরে চোখে চোখে সেই অনুমতির আনন্দ উপভোগ করছি। কবরী ম্যাডাম রাশভারী কিন্তু স্নিগ্ধ মায়াজালের মুগ্ধতায় মিষ্টি ব্যক্তিত্বের ঘেরাটোপ বেরিয়ে আমাদের অভিভাবকত্ব নিয়েছেন নিজে থেকেই সো আর চিন্তা কী? রাতের কাতারের রাজধানী আন্তর্জাতিক শহর দোহার ঘুরে দেখার অনুমতি দিয়েছেন! বেগম সারাহ কবরীকে যোগ্য টিম লিডার গণ্য করে আরেকবার তাঁর গুণমুগ্ধ হলাম, তাঁর ভূমিকার তারিফ করলাম আমরা।

সেই রাতে আমি ও রিমা আপা জোবায়ের ভাইয়ের সাথে দোহার উল্লেখযোগ্য ২-১ টি পর্যটন পয়েন্ট টাচ করলাম। দেখলাম কাতারের পার্লামেন্ট হাউস, দোহা উপসাগর গিরে প্রায় ৭ কিলোমিটার জায়গা জুগে সাগরের তীড় বাঁধানো পাথরের বেদিতে খানিক মুহূর্ত বসলাম ! ছবি তুললাম, রাতের কাতারের রাজপথে প্রতিটি সিগন্যাল পয়েন্টে জোবায়ের ভাই ঠিকই গাড়ির সিগন্যাল মেনে অপেক্ষা করলেন! শুনশান নিরব পথে এক দুটি গাড়ির সবাই ফাঁকা পথেও সিগন্যাল অমান্য করলেন না! আমরা বিস্মিত হলাম। জোবায়ের ভাই জানালেন এর গোপন রহস্য- সিগন্যাল অমান্য করে গেলেও পরদিন ঠিক বাড়িতে পৌঁছে যাবে আইন অমান্যের কাগজ, ডেইট সময় পথ অতিক্রমের সময় গাড়ির নম্বর প্লেটসহ যাবতীয় নথি! সুতরাং ফাঁকা পথে রাতে-বিরাতে, সকাল-সন্ধায় সিগন্যাল মেনেই চালকেরা গাড়ি টানছেন।

পরে রাতের কাতারের রাজধানী দোহার রাজপথের একটি রেস্তোরাঁয় খেলাম লেয়ারে লেয়ারে মধুর তৈরি কেক সাথে অনবদ্য স্বাদের কফি। রাতে হোটেলে ফিরে এবার দেখলাম আরেক রূপের কবরী ম্যাডামকে। তিনি স্নেহের আদরে আমাদের বেশ ভর্ৎসনা করেই, বললেন, এতো রাত করলে, আর আমি তো তোমাদের জন্য এতো টেনশন করছি মেয়েরা৷ তোমাদের অনুমতি দিয়ে আমি প্রহর গুনছি না জানি মেয়েরা কোন বিপদে পড়লো? বেশ বকাঝকা করলেন তিনি! আমি আর রিমা আপা ভয়ে দুজনে মোটামুটি ভাগ করে আমরা শুধু এটুকু বললাম, সরি, আমরা খুব দ্রুত শহরের দর্শদীয় কয়েকটি স্থান দেখেছি। এক-দুই স্থানে নেমে জাস্ট ফটাফট কটা ছবি তুলেছি আর কাতারে ঐতিহাসিক খাবার খেয়েছি পথের পাশেই আমাদের হোটেল থেকে গজ খানেক দূরত্বের এক রেস্তোরাঁতে।

তবে দেরি হবে তাই দারুণ স্বাদের কফিটাও পুরো শেষ করিনি। দৌড়ে চলে এসেছি, এক নিঃশ্বাসে কথগুলো বলে আমরা দুইজনেই চুপ। কারন মা মা ঘ্রাণের,বড় পর্দা আর হাজারো জনের স্বপ্নে কিংবা পাশের বাড়ির সেই চিরচেনা মিষ্টি মেয়ে কবরী আমাদের বকছেন-জানো আমি কত টেনশন করেছি! তারপর আর কি কোন কথা চলে, মাথা নিচু করে নিরবে আমি আর রিমা আপা আমরা এক বেডে ঘুমাতে গেলাম! আবার সেই ভোরে উঠতে হবে, আমেরিকায় যেতে কয়েক দফায় যন্ত্রণার আর দারুণ মানহানিকর সেই চেকিং শেষে তবেই আমেরিকাগামী ফ্লাইটে উঠা! ততক্ষণে নানান ভোগান্তির নানা কান কথা আর বাস্তবের কিছু উদাহরণ মনে নিয়ে ঘুমাতে গেলাম আরব্য রজনীর এক দেশ কাতারের দোহায়!

আমেরিকা স্বপ্নের দেশ হতে পারে অনেকের কাছেই তবে সেদেশে প্রবেশ করতে গিয়ে খোদ বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানকেও নাকানি চুবানি খাইয়েছেন সেদেশের এমিগ্রেশন কর্তারা! তাই দীর্ঘ যাত্রা শেষে আমেরিকার ফ্লোরিডার ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে আমার বুক দুরু দুরু! কি জানি কি হয়! আবারো মায়াময় রূপে পেলাম সারাহ বেগম কবরীকে। তিনি বললেন, তোমাদের সবার পাসপোর্ট গুলো আমার হাতে দাও। আর রেখা তোমার পাসপোর্টটি দুই জনের নিচে রাখলাম। কে জানে তোমার ছেড়া পাসপোর্ট দেখে এখানকার কালো মানিকেরা আবার কি জানি কি করে?

আর তোমরা সবাই আমার সাথে থেকো আমরা গ্রুপ হিসেবে এমিগ্রেশন ফেইস করবো। ততক্ষণে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটানের পার্টিসিপেন্টরাও এসে যার যার দেশের টিম সদস্যদের খুঁজে নিয়ে তাদের সাথে পরিচিত হচ্ছেন। আর গ্রুপবদ্ধ হয়ে এমিগ্রেশন চেক আউট করার উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। আমরাও চার বাংলাদেশী জীবনের বরেণ্য অভিনেত্রী শ্রদ্ধেয় সারাহ বেগম কবরীর নেতৃত্বে সমবেত হলাম। মিষ্টি মেয়ে কবরী, এমিগ্রেশনে গিয়ে আমাদের চারজনের পাসপোর্ট দিয়ে বললেন,We all are came from Bangladesh. তারপর স্নিগ্ধ হাসিতে ইমিগ্রেশনের আসনে বসা প্রায় সোয়া ছয় ফিট বা তার বেশি উচ্চতার যেমন কালো তেমন মোটা দীর্ঘকায় দশাসই ব্যক্তিদের সাথে টুকটাক গল্প জুড়ে দিলেন, যেমন, আজই প্রথম তুষার পাত শুরু হয়েছে বুঝি? ওই ইয়াহ ইয়েশ! ওহ তবে তো আমরাই তোমাদের জন্যে এমন সৌভাগ্যের শুভ্রতার বারতা নিয়ে এসেছি! ইয়াহ ইয়াহ অফকোর্স, ওয়েলকাম ম্যাম।

আমরা কবরীর ম্যাডামের পাশে দুরু দুরু বুকে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায়! এর মধ্যে যেন অনন্তকাল সময় ধরে চললো পাসপোর্টের পোস্টমর্টেম। তারপর এক সময় যার যার পাসপোর্ট হাতে ফিরিয়ে দিয়ে চোখের ছবি নেওয়ার পালা। বুদ্ধিদীপ্ত কবরী ক্যামেরায় লুক দিয়ে বললেন, স্মাইল দেবো….আবারো চললো হাসির পর্ব। তারপর ইমিগ্রেশন পর্ব শেষে স্বস্থির পালা….ততক্ষনে মুক্ত বাতাসে দম নেওয়ার তাড়ায় আমরা বেরিয়ে পড়লাম! বাইরে তখন প্লার্কাড হাতে আমাদের বরণ করতে হোস্টদের উপস্থিতি। আর ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষে সারাহ বেগম কবরীকে রিসিভ করতে এসেছেন হাইকমিশনের কতক প্রতিনিধি। তাদের গাড়িতে তিনি বেরিয়ে গেলেন….আর আমরা ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ এর প্রতিনিধিদের সাথে ডিসেম্বরের চরম ঠান্ডায় জমে যাওয়া ওয়েদারে উষ্ণতার বিনিময়ে…..গাড়িতে উঠলাম…..চললাম হোটেল পথে……!

শ্রদ্ধেয় সারাহ বেগম কবরী গতবছর আপনার শেষ যাত্রার আগে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিটি স্টেপ আমি পরম যাতনায় পর্যবেক্ষণ করেছি। তবে সরি ম্যাডাম গতবছর (২০২১ সালে) ১৬ ই এপ্রিল রাত ১২ টা ৩৯ মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের দায়িত্বশীল চিকিৎসক যখন আমাকে ফোন করলেন, সেই ফোন আমি রিসিভ করতে পারিনি! গতকাল হঠাৎ আগেই ঘুমিয়েছি, মাথার কাছে ফোন বাঁজছে, আমি তখন ঘুমের দোলনায়, ক্লান্তি আর অবসন্নতার মধ্যেও অভ্যাসবশত ফোনটা হাতে নিয়েছি বটে তবে রিসিভ না করেই আবার পাশ ফিরে ঘুমিয়েছি! যা সাংবাদিকতার গত বিশ বছরে কখনোই করি নি! ভোর রাতে সেহেরির সময় মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে চিকিৎসককের ঝলঝলে নামটা দেখেই বুঝলাম, আপনি নেই! এর আগে বৃহস্পতিবার আপনাকে যখন লাইফ সাপোর্টে দেয়া হয়েছিল, সেই খবর স্ক্রলের জন্য নিউজের গ্রুপ ম্যাসেঞ্জারে দিয়েছিলাম! তখনই মনে “কু” ডাকলো-যেখানে গেলে আর কেউ ফেরে না সেই লাইফ সাপোর্টে চলে গেলেন আপনি! সহকর্মী পান্থ রহমান, আমার সেই নিউজের ওপর স্যাড সাইন দিলো! আমিও মনে মনে মিলিয়ে নিয়েছিলাম… এ যাত্রায় আপনি খুব প্রিয় মুখ আমার, সত্যি সত্যিই চলে গেলেন খরচের খাতায়!

আপনাকে আর ফেরানো যাবে না কিছুতেই না….!

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

Channel-i-Tv-Live-Motiom

Jui  Banner Campaign
ট্যাগ: কবরীনায়িকা কবরীসারাহ বেগম কবরী
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

ছবি: সংগৃহীত

আজ শুরু হচ্ছে চারদিনের ডিসি সম্মেলন

মে ৩, ২০২৬

৭ গোলের রোমাঞ্চে শেষ মুহূর্তে হেরে গেল মেসির মিয়ামি

মে ৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কালবৈশাখীর শঙ্কা, ১৩ অঞ্চলে ঝড়–বৃষ্টির সতর্কতা

মে ৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৪৩ হাজারের বেশি হজযাত্রী সৌদিতে, এখন পর্যন্ত মৃত্যু ৭

মে ৩, ২০২৬
সুইজারল্যান্ড-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি প্রকাশ করেছে ‘হেলভেটিক ম্যাগাজিন’

সুইজারল্যান্ড-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি প্রকাশ করেছে ‘হেলভেটিক ম্যাগাজিন’

মে ৩, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey January 2026 Bkash Stickey September 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT