বনানীর দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে এখন রিমান্ডে। বহুল আলোচিত এই নাঈম রিমান্ডে থাকলেও তার অতীতের অনেক ছবি ও সেলফি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়াতে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নাঈমের শো-বিজ ও মিডিয়ার অনেক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। মিডিয়ার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সে মিডিয়া সেলিব্রেটির সঙ্গে সেলফি তুলেছে। সেইসব ছবি ও সেলফি এখন তারকা-সেলিব্রেটিদের জন্য সর্বনাশের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।
বনানীতে ধর্ষণকাণ্ডের পর থেকে নাঈম অশরাফের সঙ্গে কয়েকজন সেলিব্রেটির সেলফি দেখে ওইসব তারকা-সেলিব্রেটিদের নানাভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে। অভিযুক্ত করা হচ্ছে নানা অমূলক ও অপব্যাখায়।
ফেসবুকে এভাবে কারো সম্পর্কে না জেনে, বা বিষয়ের প্রেক্ষাপট না বুঝেই মন্তব্য করাকে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারাহ দীবা।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যম হলো এমন একটি মাধ্যম, যেখানে অনেকটা যা খুশি বলা যায়। এটি কোন সমস্যা নয়। মানুষ কোন কিছু দেখার পর নিজের জ্ঞান ও ধারণা থেকে কথা বলবে এটিই স্বাভাবিক। তবে ভালো বিষয় থেকে মানুষ খারাপ বিষয় নিয়ে বেশি মাতামাতি করতে আনন্দ পায়। তাই সাইকোলজির ভাষায় এটিকে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বলে।
মনোবিজ্ঞানীরা এই মন্তব্য বা সমালোচনা করাকে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বললেও নাঈম আশরাফের সঙ্গে সেলফি তোলা কয়েকজন বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না। কেউ কেউ তাদের মানহানি হয়েছে বলে মনে করে মামলা করারও চিন্তা করছেন।
কোন এক অনুষ্ঠানের সূত্রে নাঈম আশরাফের সঙ্গে সেলফি তোলা সঙ্গীত শিল্পী লোপা হোসেইন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আসামি নাঈম আশরাফের সঙ্গে আমার যে সেলফি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা হচ্ছে, সেটি আমার তোলা সেলফি না, এটি অন্য আরেকজনের মোবাইল ফোনে তোলা। আমরা যারা মিডিয়াতে কাজ করি, তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হয় এবং সেসব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পরিচিত ও অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে হয় এবং অনুরোধে ছবিও তুলতে হয়।
অনেক ক্ষোভ নিয়ে ক্লোজআপ ওয়ান তারকা লোপা হোসেইন আরও বলেন: সম্প্রতি একটি অনলাইন পোর্টালে আসামি নাঈমের ‘বেপরোয়া জীবন’ নিয়ে একটি নিউজ করেছে, সেখানে ছবি হিসেবে আমার ছবি ব্যবহার করেছে। মানুষ তো এখন ধারণা করে নিচ্ছে যে নিউজে যাদের ছবি আছে, তাদের সবার সঙ্গে নাঈমের সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি দু:খজনক।
‘আমার কথা, যারা এই নিউজটি করেছে তারা এই সোর্স কোথায় পেয়েছে? কিসের ভিত্তিতে এমন নোংরা নিউজে আমার ছবি জুড়ে দিলো। এ কারণে সামাজিকভাবে আমার চরমভাবে মানিহানি হয়েছে।’
লোপা বলেন, কেউ চাইলে আমার অর্জিত সম্মানটা এভাবে ক্ষুণ্ন করতে পারে না। আমার একধরনের মানহানি ঘটানো হয়েছে। তাই আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে ওই পোর্টালের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নেব।
মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফারহানা নিশো ও নাঈম আশরাফের সেলফি নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে বির্তক সৃষ্টি হয়েছে। ফারহানা নিশোও বিষয়টি সঙ্গত কারণে সহজভাবে নিতে পারেন নি।
নিশো তার ফেসবুকে লিখেছেন: আমার বিরুদ্ধে যে বা যারা বিভিন্ন ছবি সংযুক্ত করে মিথ্যা / ভিত্তিহীন অপবাদ দিয়ে লিখছেন বা আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছেন কিংবা ওসব লেখা শেয়ার করছেন , তাদের প্রতি অনুরোধ আপনারা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সেইসব লেখা ডিলিট করুন অন্যথায় আমি ৫৭ ধারায় আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবো। 
সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করার বিষয়কে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বলা মনোবিজ্ঞানী ড. ফারাহ দীবা সেলফিকাণ্ডের বিষয়ে বলেন, অনলাইন বা সামাজিক মাধ্যমে আমরা এখনও পুরোপুরি অভ্যস্ত নয়। তাই কেউ কোন পোস্ট করলে নিজেদের জ্ঞান নিয়ে কমেন্ট করে বসি। তারা এটাও জানে না তার কোন মানহানি ঘটবে কিনা। শুধু তাই নয়, খারাপ কমেন্টও করে বসি।
‘এরা মূলত মানুষদের নিয়ে খারাপ কথা বলতে বেশি আনন্দ ও তৃপ্তি পায়। এবং শ্রেণীটি অশিক্ষিত। কারো সঙ্গে সেলফি তুললেই সেলফি তোলা চরিত্রদের মধ্যে কোন সর্ম্পক আছে, এটা মনে করা অনেকসময় ‘মানসিক রোগ’ পর্যায়ে পড়ে।’
সামাজিক মাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও আচরণে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও এর অনেক ইতিবাচক প্রভাব আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় ধরনের অনেক ঘটনা ঘটেছে, যা ফেসবুকে আড়োলন তোলার পর সবার সামনে এসেছে। তাই আমি মনে করি নেতিবাচক দিকটি নয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক দিকে নিয়ে কথা বলা উচিত।








