সাউথ আফ্রিকা সফরে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতার সামনে আগেও পড়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের রানের বন্যা দেখতে হয়েছে। ৯ বছর পরও একই অভিজ্ঞতা হচ্ছে মুশফিকুর রহিমের দলের। পচেফস্ট্রমে প্রোটিয়ারা বড় সংগ্রহের পথ করেছে প্রথম দিনেই। প্রথম ইনিংসে তারা কোথায় থামতে পারে তা নিয়ে শঙ্কার কথাই বললেন সাব্বির রহমান। তাতে ফুটে উঠল কেবল অসহায়ত্বই।
‘ওরা যদি তিনদিন ব্যাটিং করে আপনি বলতে পারবেন না ওরা কত রান করবে। ১ হাজার রানও হতে পারে, সাতশ রানও হতে পারে। যত কম রানে বাঁধা যায়। ওরা যত বেশি রান করবে আমাদের তত বেশি সমস্যায় পড়তে হবে।’
সমস্যায় তো পড়েছেই বাংলাদেশ। এলগার অপরাজিত ১২৮ রানে। আমলা খেলছেন ৬৮ রানে। প্রথমদিনে একটি মাত্র উইকেট এসেছে, সেটিও রান আউটের কল্যাণে। ৯৭ রানে সেঞ্চুরি হারানোর আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছেন এইডেন মার্করাম। শতক বড় করতে থাকা ডিন এলগার ও ফিফটি তুলে হাশিম আমলা দ্বিতীয় দিনের যন্ত্রণা বাড়াতে মাঠে নামবেন!
বোলিং বিভাগে বৈচিত্র্য নেই, তিন পেসারের সঙ্গে স্বীকৃত স্পিনার বলতে মেহেদী হাসান মিরাজ। নেই কোনও বাঁহাতি স্পিনার। এমন আক্রমণ নিয়ে পচেফস্ট্রমের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে আগে বোলিং নেওয়াটা যে ভুল ছিল সেটি প্রথম দিনই টের পেয়েছে বাংলাদেশ। অনভিজ্ঞ আক্রমণ নিয়ে কী ভরসায় মুশফিক এমন উইকেটে বোলিং বেছে নিলেন সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
সিদ্ধান্তের ভুল-সঠিকের তর্কে না গিয়ে কী কারণে ফিল্ডিং নিয়েছিল বাংলাদেশ সেটি জানালেন সাব্বির, ‘প্রথম টেস্টের প্রথম দিন, টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছি অবশ্যই কিছু করার জন্য। এক-দুই ঘণ্টা যাওয়ার পর দেখলাম ফ্ল্যাট উইকেট। তখন ঠিক করলাম রান চেক করতে হবে। তখন যতটা পারা যায় রান বেঁধে রাখার চেষ্টা করেছি।’
এই মাঠে ২০০২ সালে প্রোটিয়াদের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তারপর আর টেস্ট হয়নি এখানে। ভেন্যুটির টেস্ট অভিষেকে যে দুটি দল খেলেছিল, সেই বাংলাদেশ-সাউথ আফ্রিকার টেস্ট দিয়েই ১৫ বছর পর আবারও প্রাণ পেল সেনওয়েজ পার্ক। ওয়ানডে ভেন্যু হিসেবেই এখন মাঠটিকে সবাই চেনে। ওয়ানডে ভেন্যু হওয়ায় উইকেটগুলো ফ্ল্যাট। চাইলেই ডারবান কিংবা জোহানেসবার্গের মতো বাউন্সি উইকেট গড়া সম্ভব না। সফরে সাকিবের না থাকা, তাইজুলকে একাদশের বাইরে রাখায় বৈচিত্র্য কমে যাওয়া, ফ্ল্যাট উইকেট, রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়া, এরপরও কেন আগে বোলিং? সাব্বিরের যুক্তির পরও সে প্রশ্ন থাকছে।
সাউথ আফ্রিকা মেরে না খেলায় তিনশ পেরোয়নি সংগ্রহ। তবে প্রথম দিনের ব্যাটিংয়ে পরিকল্পনার যে ছাপ রেখেছে তারা। প্রথম সেশনে ৯৯, দ্বিতীয় সেশনে ৯৯, তৃতীয় সেশনে তারা যোগ করেছে ১০০ রান। দ্বিতীয় দিনের পরিকল্পনায় যদি থাকে মারকুটে কিছু, তাহলে স্কোর কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটি নিয়েই ভয়!
দিনের শেষদিকে ক্লান্ত মনে হয়েছে বোলারদের। লিটনকে কিপিং গ্লাভস ছেড়ে দেওয়া মুশফিক ফিল্ডিংয়ের সময় উজ্জীবিত রাখার চেষ্টা করেছেন দলকে। কিন্তু লাভ হয়নি। ক্লান্তি যতটা না শারীরিক, তার চেয়ে বেশি মানসিকই। পেসারদের অভয়ারণ্য হবে সাউথ আফ্রিকার মাটি, এমন ভাবনা থেকে যে সরে যেতে হয়েছে প্রথম দিনেই। সেই ধাক্কাই সামলে উঠতে পারল না পেসাররা!
কোচ-অধিনায়কের উইকেট পড়তে না পারার মাশুল দিচ্ছে বোলাররা। আত্মবিশ্বাসী হয়ে যদি ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে তারা ফিরে আসতে না পারে, বিপদ তাতে বাড়বেই। সাউথ আফ্রিকায় গিয়ে আগের চারটি টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের স্মৃতিও যে ভেসে আসছে প্রথম দিনের পর।
ভালো বোলিং করতে না পারলে কতটা ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে টাইগারদের জন্য সাব্বিরকে সেটি বলতে হল ঘুরেফিরেই, ‘যদি ভালো বোলিং না করতে পারি, তাহলে পাঁচ দিনও ব্যাটিং করতে পারে। আমরা চেষ্টা করছি! উইকেট ফেলার জন্য বোলিং করতে হবে। চেষ্টা করতে হবে ভালো বোলিং করার জন্য, ভালো জায়গায় বোলিং করার জন্য। যদি রান বেঁধে রাখতে পারি, সেটাও আমাদের জন্য ভালো হবে।’






