বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ১৬৭ জনের সেই খসড়া তালিকায় নেই বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। তার ক্লাব বারিধারা ড্যাজলার্সের হয়ে কাউন্সিলর হয়েছেন রিয়াজ আহমেদ।
সাবের হোসেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন না সেটি আগেই আঁচ করা যাচ্ছিল। গত ১০ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলর হওয়ার জন্য বিসিবি থেকে চিঠি পান সাবের। চিঠির জবাবেই তিনি কাউন্সিলর পদ থেকে নাম প্রত্যাহার করার বিষয়টি বিসিবিকে জানান। কাউন্সিলর না হওয়ার ব্যাখ্যায় তিনি গত মাসে মিডিয়া ব্রিফিং করে বলেছিলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট দুজনই যেহেতু বলছে এই কমিটির কোন বৈধতা নেই। সেটার অধীনে যদি কোন প্রক্রিয়া হয়, সে প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে একটা প্রশ্ন আসতেই পারে। আমি কথাটি তাদের জানিয়েছি। আমার মনে হয়েছে, সে কারণেই আমি আর কাউন্সিলর হওয়ার যোগ্য নই।’
সাবের হোসেন কাউন্সিলর না হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বীতাহীন হয়ে উঠবে আসছে ৩১ অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচন। ২০১৩ সালেও বিসিবির বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বিপক্ষে আরেকটি প্যানেলে নির্বাচন করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। পরে ২২ পরিচালকের মধ্যে ১৯ জনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। সেবার অবশ্য সাবের কাউন্সিলর হয়েছিলেন। এবার পুরো কার্যক্রম থেকেই নিজেকে সরিয়ে নিলেন।
ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব) মো. ওমর ফারুক বিসিবি কার্যালয়ে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘নির্বাচনী তফসিল মোতাবেক খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হল। ১৬৭ জন কাউন্সিলরের তালিকা পেয়েছি ক্রিকেট বোর্ড থেকে। আমরা সেটাকে খসড়া হিসেবে ঘোষণা করেছি।’
কাউন্সিলর মনোনয়নে ১৫ অক্টোবর শেষদিন হিসেবে ধার্য করেছিল নির্বাচন কমিশন। ১৭২ কাউন্সিলরের মধ্যে সময়সীমার মধ্যে ৫টি আবেদন জমা পড়েনি। যাচাই-বাছাইয়ের পর ১৬৭ জনকেই খসড়া ভোটার তালিকায় রেখেছে নির্বাচন কমিশন। সময় পেরিয়ে যাওয়ায় নতুন করে কাউন্সিলর যুক্ত করার সুযোগ নেই বলেও জানানো হয়েছে। ভোটার তালিকা নিয়ে কারও কোন আপত্তি থাকলে মঙ্গলবার দুপুরে বিসিবি কার্যালয়ে শুনানি হবে। বিকেলে ঘোষণা করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
যে পাঁচটি সংস্থা কাউন্সিলরের নাম পাঠায়নি তারা- বান্দরবন জেলা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাগেরহাট জেলা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন, কুড়িগ্রাম জেলা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা।
কেন তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আসেনি, জানতে চাওয়া হলে বিসিবির প্রধান নির্বাহী ও নির্বাচন কমিশনার নিজামউদ্দিন চৌধুরী বললেন, ‘তারা চিঠি পায়নি, এমন কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই। পাঠাচ্ছে এ ধরনের কোন তথ্যও নেই। বিসিবি চিঠি পাঠিয়েছে সে সম্পর্কে আমরা অবগত আছি।’
বোর্ডের কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বললেন, ‘এটা নীতিগত সিদ্ধান্ত, এটা বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।’








