পেরুর কারাবন্দি সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরিকে গুরুতর অসুস্থ থাকার কারণে ২৫ বছররের কারাদণ্ড ক্ষমা করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পেরুর হাজার হাজার মানুষ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বিবিসি জানায়, পেরুর রাজধানী লিমাতে প্রতিবাদকারী জনতা চিৎকার করে আলবার্তো ফুজিমোরিকে ‘ক্ষমা না’ বলে বিক্ষোভ করে। এসময় পুলিশ তাদের ওপর গ্যাস আর পানি মেরে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করে।
পেরুর বর্তমান প্রেসিডেন্ট পাবলো কুকজিনস্কি তার শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকার কারণে ফুজিমোরিকে ক্ষমা করে দেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ফুজিমোরির অনারোগ্য অসুখের কথা বিবেচনা করে তাকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৭৯ বয়সী ফুজিমোরির রক্তচাপ কমে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি অনেকদিন যাবত উচ্চ রক্তচাপ এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যায় ভুগছেন। তার জীবন সঙ্কটাপন্ন বলে রোববার জানিয়েছেন তার চিকিৎসক আলেজান্দ্রো আগুইনাগা।
তবে এই ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে কুকজিনস্কি প্রেসিডেন্ট দলের দুই সদস্য। তারা পেরু কংগ্রেস থেকে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন।
১৯৯০ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফুজিমরি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ফুজিমরিকে ২০০৯ সালে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যা ছিল লাতিন আমেরিকার কোন দেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোন সরকার প্রধানের তার নিজ দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে দণ্ডিত হওয়ার প্রথম ঘটনা।
নিজের শাসনামলে অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং রক্তক্ষয়ী বামপন্থি বিদ্রোহ অবসানের জন্য ফিুজিমোরি কৃতিত্বের দাবিদার হলেও সমালোচকদের কাছে তিনি দুর্নীতিবাজ একনায়ক। ২০০৭ সালে ঘুষ গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে প্রথমে ফুজিমরিকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দুই বছর পর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে আরও ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ক্ষমতায় থাকার সময় বিদ্রোহী তৎপরতা মোকাবেলায় ডেথ স্কোয়াডে ২৫ জনকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে এই মামলায় ফুজিমরিকে দোষীসাব্যস্ত হন। ওই সময় কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন ফুজিমরি। দুই দশকব্যাপী ওই সংঘর্ষে প্রায় ৭০ হাজার লোক নিহত হয়। গত কয়েক বছর ধরে স্বাস্থ্যজনিত নানা জটিলতার কারণে কয়েকবারই ফুজিমরিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।








