ম্যাচের পর প্রত্যেক সতীর্থ থেকে শুরু করে টিম স্টাফ, সবাই বাহুবন্ধনে আটকা পড়লেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার। আবেগে ভাসবো, ভাসবো না করেও শেষপর্যন্ত ছেলেমানুষি আবেগে ভেসেছেন টাইগার দলপতি। সাত সাতবারের চেষ্টায় ইংল্যান্ডকে হারানোর পর স্কটিশ রাজা রবার্ট ব্রুসের মুখে কেমন হাসি ছিল তার একটা ধারণাই যেন পাওয়া গেল এদিনের মাশরাফীকে দেখে!
অবশ্য মাশরাফী আবেগে ভাসবেনই না কেন? একবার নয়, দুবার নয়, ছয় ছয়বার যে ফাইনাল খালি হাতে ফিরিয়েছে বাংলাদেশকে। সপ্তমবারের বেলায় এসে সেই গেরো খুলে গেল মাশরাফীর হাত ধরে। টাইগার অধিনায়ক চাইলে নিজেকে রবার্ট ব্রুসের মতো করেও ভাবতে পারেন!
ওয়ানডে অধিনায়কের মনে কী চলেছে সেটা বোঝা না গেলেও মুখের হাসিই বলে দিয়েছে- নিজ দলের কাছে, মানুষের কাছে এখন তিনি দিগ্বিজয়ী বীর। সৌম্য সরকার-মোসাদ্দেক হোসেনের কল্যাণে ফাইনাল জয় করে ত্রিদেশীয় সিরিজের ট্রফিটা নিয়ে বিজয়ীর বেশে মাঠময় হেঁটে বেড়ালেন। তার আগে ঘোষণা দিলেন শিরোপাজয়ের বহরযাত্রা কেবলই শুরু!
‘আমি আশাবাদী, ভবিষ্যতে সাফল্য কেবল আসতেই থাকবে। আগের ৬বার আমরা খালি হাতে ফিরেছি। অবশেষে সপ্তমবার এসে সাফল্য ধরা দিলো।’
‘অপরাজিতভাবে চ্যাম্পিয়ন হতে পারার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। এই সাফল্য বিশ্বকাপের আগে দলকে ভীষণরকম আত্মবিশ্বাস যোগাবে।’
দেশ ছাড়ার সময়ই মাশরাফী ঘোষণা দিয়ে গিয়েছেন, এবারের বিশ্বকাপই তার শেষ। তারপর আর বল হাতে মাঠে নামবেন কিনা সেটা অবশ্য নিশ্চিত নয়। যদি ধরে নেয়া হয় বিশ্বকাপই শেষ, তাহলে আসছে ইংল্যান্ড আসর বাদে ত্রিদেশীয় সিরিজই ছিল মাশরাফীর সামনে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি জয়ের শেষ সুযোগ। তাতে সতীর্থরা কি দারুণ এক উপহারই না দিলেন প্রিয় ‘ম্যাশ’কে। আর মাশরাফীও ভীষণরকম আত্মবিশ্বাসী, তিনি না থাকলেও এই পথে হাঁটা শুরু করে বহু শিরোপার কাছে যাবে বাংলাদেশ!








