জেলা প্রশাসক সম্মেলন উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের অগ্রযাত্রায় শুধু সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নয়, দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিনদিনের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনীতে বিভাগীয় কমিশনাররাও অংশ নেন। তিনজন জেলা প্রশাসক এবং একজন বিভাগীয় কমিশনার বক্তৃতা করেন অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠান থেকে ডিজিটাল সেবা পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার পেয়েছে রংপুর বিভাগ এবং কুষ্টিয়া, পঞ্চগড় ও নারায়ণগঞ্জ জেলা।
প্রধানমন্ত্রী তার উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, জেলা প্রশাসন আজ মাঠপর্যায়ে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পুরনো ধ্যান ধারণা পরিবর্তন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, শুধু নিজেদের সফল কর্মকর্তা তৈরি করা এবং রুটিন ওয়ার্ক থেকে বেরিয়ে এসে চিন্তা করতে হবে দেশ ও জাতির উন্নয়ন কীভাবে করা যায়। আপনারাও এদেশের নাগরিক। এদেশের কৃষক, শ্রমিকদের অর্জিত অর্থই কিন্তু আপনাদের বেতন, ভাতার যোগান দেয়। এটা তাদেরই অবদান।
উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে এবং জনগনের সেবায় সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের আরো আন্তরিক হতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেষ্ট থাকতে বলেন তিনি।
তিনি বলেন, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, এর চেয়ে জঘন্য কাজ আর কিছু হতে পারে না। আপনারা সক্রিয় ছিলেন বলেই এই অবস্থা থেকে আমরা উত্তোরণ ঘটাতে পেরেছি। ভবিষ্যতে এমন কাজ যেন আর কেউ করতে না পারে সে ব্যাপারে যথাযথভাবে সজাগ থাকতে হবে। আমরা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছি। এরপর আমাদের আরো সচেতন থাকতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এর আগের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে নেয়া ৪৬৪টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ৪৩২টি বাস্তবায়ন হয়েছে।
এবার ৪৭টি মন্ত্রণালয়ের ২৫৩টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে ২২টি অধিবেশনে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদিক।







