আচ্ছা ধরুন আপনি তিনমাস একটানা ঘর থেকেই বের হননি। সূর্যের আলোর সঙ্গে মোটেও সাাত হয়নি। এরপরে যেদিন ঘর থেকে বের হবেন কেমন লাগবে? এমনটাই ঘটেছিলো এই লেখকের। বইটা লেখার জন্য রীতিমতো তিনমাস ঘর থেকেই বের হননি তিনি। তারই ফলাফল ‘অন্দরমহল’ বইটি। দীর্ঘসময় পরে সূর্যের আলো যেমন চোখে পানি এনে দেয় তেমনই এই বইটির প্রথম ঝলকও চোখ ভিজিয়ে তুলেছিলো লেখকের। অনেক কষ্টের ফল বলে কথা।
এবারের বইমেলায় বাজারে এসেছে সাদাত হোসাইনের লেখা বই ‘অন্দরমহল’।
শুধু তিনমাসের স্বেচ্ছা গৃহবন্দীই নয়। আরো অনেক পরিশ্রম আর প্রচেষ্টা ফসল এই বইটি। লেখক বলেন, দেড় বছর ধরে আমি কাজ করছি এই বইটি নিয়ে। বই লেখার আগে পড়াশোনার তো আর কোনো বিকল্প নেই। এই বইটি লিখতে গিয়েও পড়াশোনা করেছিলা প্রচুর। তাছাড়া বইটি ১৮২০ সালের প্রেক্ষাপটে লেখা। একটি সময়কে ধরে লিখতে গেলে সেই সময়ের অনেক পারিপার্শ্বিক বিষয়াদি থাকে, সেসব তুলে আনার জন্যই অনেক পড়াশোনা দরকার। সাহেব বিবি গোলাম বইটি থেকে রিতুপর্ণ ঘোষের অনেক সিনেমা দেখাও সেই পড়াশোনারই অংশ ছিলো।
সাদাত হোসাইনের মনের ভেতর শুধুই গল্পের বসবাস। গল্প শোনাতে ভালোবাসেন এই লেখক। আর সেটার প্রকাশ ঘটে লেখার মাধ্যমে। তাই বলে লিখলেন আর সেটা বই করে ফেললেন এমনটাও চাননা তিনি। বলেন, একটা লেখা শেষ করার পর আমি চেষ্টা করি সেটা অন্তত পাঁচধরনের পাঁচজন মানুষকে দিয়ে পড়ানোর। তাদের কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কেউ মেডিকেলের শিক্ষার্থী। তাহলে কোথায় কোথায় আর কি কি সমস্যা আছে তা আরো পরিষ্কার হয়ে উঠে। এবারের বইটিতেও তেমন প্রচেষ্টা ছিলো। ‘অন্দরমহল’ বইটিও এবার পড়ে দিয়েছেন অনেকে, দিয়েছেন তাদের মতামত।
শুধু লেখালেখিই নয়। আরো অনেক কিছুই করেন সাদাত হোসাইন। ছবি তোলা বা ফিল্ম বানানো তারই একটি অংশ। সবগুলোই করেন ভালোবাসা থেকে। ভালো লাগে তাই ছবি তোলেন, ভালো লাগে তাই সিনেমা বানান, ভালো লাগে তাই লেখালেখি করেন। ভালোবাসার কাজ করে সবার ভালোবাসা পেলেই তিনি খুশি। তবে মনে মনে স্বপ্ন আঁকেন পাঠককে তিন প্রজন্মের গল্প শোনানোর। বলেন, ইচ্ছে আছে অনেক বড় একটি উপন্যাস লিখবো। অনেক বড়। সেখানে পাঠককে আমাদের তিন প্রজন্মের গল্প শোনাবো। আমার, আমার বাবার এবং তার বাবার। সেটা অবশ্য বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আমার দাদার জন্মের সময়টা নিয়েও নিশ্চয়ই তাহলে আমার জানাশোনা থাকতে হবে।
লেখক হিসেবে নিজের সবটাই দিতে চান এই লেখক। পাশাপাশি কিছু প্রত্যাশা থাকে পাঠকের কাছ থেকেও। বলেন, আমি চাই পাঠক বই পড়ুক। এটা সব লেখকই চান। আসলে অনেক ভালো বই-খারাপ বই বলে পার্থক্য করার চেষ্টা করেন। সব বই-ই ভালো। দেখবেন বই পড়লে সেটা একসময় না একসময় খুব কাজে এসে যাবে।
সেলিম আল দ্বীনের অনেক নাটক সম্পর্কে অনেকের মন্তব্য তার লেখাও তো আন্তর্জাতিক মানের ছিলো তাহলে তিনি নোবেল পাননি কেন? তার একমাত্র কারণ সেসব ঠিকভাবে ইংরেজিতে অনুবাদ হয়নি। তাই সেটা নোবেল কমিটিতো দূর, ভিন্ন ভাষাভাষীদের কাছেই ঠিকঠাক পৌছাতে পারেনি। ঠিক সেভাবেই সঠিক যত্নের অভাবেই আমাদের সাহিত্য দেশের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারছে না বলে মনে করেন এই লেখক। বলেন, সেই দায়িত্ব নেওয়া উচিত বাংলা একাডেমিরই। তাহলে হয়তো পুরো কাজটা অনেক সহজে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
সাদাত হোসাইনের লেখা ‘অন্দরমহল’ বইটি প্রকাশ করেছে ভাষাচিত্র। পাওয়া যাচ্ছে বইমেলার ৪১৫-৪১৬ নাম্বার স্টলে।






